(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইন্টারনেট বন্ধ করেও ঠেকানো যাচ্ছে না আন্দোলনের বিস্তার। এই মুহূর্তে সে দেশের ৩১টি অঙ্গরাজ্যের সবক’টিই সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই বলেছেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে কাজ করলে কেউ নিস্তার পাবে না।’’
ট্রাম্প শুক্রবার রাতে বলেন, ‘‘ইরান বড় বিপদের মুখে রয়েছে।’’ সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আবার ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। তার পরেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ এবং সমাজমাধ্যমে পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিশানা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমগ্র বিশ্ব সম্পর্কে অহংবোধ থেকে বিচার করেন, তাঁর জানা উচিত যে, বিশ্বের সমস্ত অত্যাচারী এবং অহংকারী শাসকের ক্ষমতার শীর্ষ থেকে পতন ঘটেছে।’’
ইরানের দেশের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র) জনগণকে গণপ্রতিবাদে নামার ডাক দিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার। তার পরেই পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে ইন্টারনেট এবং টেলিফোন সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ইন্টারনেট স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানায়, সে দেশের সরকার বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। আর তা ঠেকাতে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। রাজধানী তেহরানে অন্তত ২০০ বিক্ষোভকারীকে গুলি করে পুলিশ মেরেছে বলে স্থানীয় এক চিকিৎসকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি।
যদিও কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৬৫। আটক অন্তত ২৩০০ বিক্ষোভকারী। প্রসঙ্গত, গত ২৭ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারেরা দেশে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ। প্রাথমিক ভাবে দেশের আর্থিক অবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চললেও ক্রমে তা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিক্ষোভে পরিণত হয়। ২০২২ সালে নারী স্বাধীনতা নিয়ে ইরানে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল খামেনেইয়ের বাহিনী। এ বারও আন্দোলনের মোকাবিলায় সেই কৌশলই প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ঘটনাচক্রে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন সেনার সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর ক্ষমতা কেবলমাত্র নৈতিকতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অন্য দেশে সেনা অভিযানের পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে কোনও আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করবেন না তিনি। ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে বিমানহানা এবং সেনা অভিযান চালিয়ে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর ক্ষমতার কোনও সীমা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “হ্যাঁ, একটি জিনিস আছে। আমার নিজস্ব নীতি। আমার নিজস্ব মন। এটিই একমাত্র জিনিস, যা আমাকে থামাতে পারে। আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই।’’