(বাঁ দিকে) সদ্য অপসারিত মার্কিন সেনা সর্বাধিনায়ক (আর্মি চিফ অফ স্টাফ) র্যান্ডি জর্জ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত চলছে আমেরিকার। তার মধ্যেই মার্কিন সেনা সর্বাধিনায়ক (আর্মি চিফ অফ স্টাফ) র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার আমেরিকার প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সরে দাঁড়ানোর বার্তা দেন জর্জকে। এর আগে কোনও দেশের সঙ্গে সামরিক সংঘাত চলার সময় সেনা সর্বাধিনায়ককে সরিয়ে দেওয়ার নজির আমেরিকায় ছিল না।
কী কারণে সেনা সর্বাধিনায়ককে বরখাস্ত করা হল, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। প্রথমে একাধিক সূত্র উদ্ধৃত করে এই খবর প্রকাশ্যে এনেছিল সংবাদসংস্থা রয়টার্স। পরে পেন্টাগন (আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর)-এর তরফে এই খবরে সিলমোহর দেওয়া হয়। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “র্যান্ডি জর্জ আমেরিকার ৪১তম সেনা সর্বাধিনায়ক হিসাবে অবসরগ্রহণ করছেন।” বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করা হচ্ছে। অবসরজীবন ভাল ভাবে কাটানোর জন্য জর্জকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছে পেন্টাগন।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সেনা সর্বাধিনায়ক হিসাবে এখনও প্রায় দেড় বছরের মেয়াদ বাকি ছিল জর্জের। মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তাঁকে সরে যেতে বলা হল। তাঁকে অপসারণ করার কারণ হিসাবে হোয়াইট হাউসের আনাচকানাচ থেকে নানা তত্ত্ব উঠে আসছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জোরালোটি হল, ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সাযুজ্য রাখতে না-পারার অভিযোগ। পেন্টাগনের একটি সূত্রের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আমেরিকার প্রতিরক্ষা কাঠামো ঢেলে সাজতে চান হেগসেথ। সেই লক্ষ্যেই সেনা সর্বাধিনায়ককে সরানো হল বলে ওই সূত্রের দাবি।
একদা মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ়ের সঞ্চালক হেগসেথ প্রতিরক্ষাসচিব হওয়ার পরেই মার্কিন সেনার বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিককে ছাঁটাই করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতেই বরখাস্ত করা হয় অ্যাডমিরাল লিসা ফ্র্যানসেট্টি, জেনারেল জিম সিলফেকে। দুই মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সেনার প্রশিক্ষণ বিভাগের দায়িত্বে থাকা জেনারেল ডেভিড হোডনে এবং চ্যাপলেন কোরের প্রধান মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনকেও বরখাস্ত করেছেন হেগসেথ। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হল স্বয়ং মার্কিন সেনা সর্বাধিনায়কের নাম।