(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। বাণিজ্য নিয়ে মাঝে দু’দেশের কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হলেও দুই রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে একই রকম। এ বার তারই এক সাম্প্রতিক উদাহরণ তুলে ধরলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর। জানালেন, সম্প্রতি এক দিন সকাল ৬টায় মোদীকে ফোন করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প।
সোমবার ওয়াশিংটনে ভারত-আমেরিকা স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরামে বক্তৃতা করছিলেন গোর। স্বাভাবিক ভাবেই দু’দেশের বাণিজ্যচুক্তির কথাও উঠে আসে বক্তৃতায়। গোর জানান, চুক্তির বেশির ভাগই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। চুক্তির শেষ ১-২ শতাংশই শুধু চূড়ান্ত হওয়া বাকি আছে বলে জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। কথাপ্রসঙ্গে মোদী এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। গোরের মতে, এই সুসম্পর্কই দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের হৃদ্যতা বোঝাতে সাম্প্রতিক এক সন্ধ্যার কথাও তুলে ধরেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ওই সন্ধ্যায় তিনি মায়ামিতে ‘ইউএফসি’-র একটি প্রতিযোগিতা দেখতে গিয়েছিলেন ট্রাম্পের সঙ্গে। গোর জানান, ওই সন্ধ্যায় ট্রাম্প নিজে থেকেই মোদীকে ফোন করতে চেয়েছিলেন। তখন গোর তাঁকে বলেন, “এখন তো ওখানে সবে সকাল ৬টা।” তাতে ট্রাম্প উত্তর দেন, “উনি এত ক্ষণে ঠিক ঘুম থেকে উঠে গিয়েছেন। উনিও আমার মতো।” যদিও শেষপর্যন্ত ওই সময়ে আর মোদীকে ফোন করেননি ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের জন্য পরের দিনটি স্থির করে ট্রাম্পের প্রশাসন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কথায়, এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় দুই নেতার মধ্যে কতটা সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “আপনার সঙ্গে যখন কারও বন্ধুত্ব হয়ে যায়, তখন সব কিছু যে ঘড়ি কাঁটা মেনেই হবে এমন কোনও কথা নেই। প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) সত্যিই প্রধানমন্ত্রী (মোদী)-কে একজন বন্ধু হিসেবে দেখেন।”
গত কয়েক সপ্তাহে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনায় আরও গতি এসেছে বলে মনে করছেন গোর। তাঁর মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, দু’সপ্তাহ পরে চতুর্দেশীয় জোট ‘কোয়াড’-এর বিদেশমন্ত্রীরা ফিলিপিনসে বৈঠকে বসবেন। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক এই জোটের অন্যতম দুই সদস্য হল আমেরিকা এবং ভারত।