হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল। ছবি: পিটিআই।
হরমুজ় প্রণালীর কাছে ওমান উপকূলে ফের হামলা চালাল আমেরিকা। পণ্যবাহী ওই জাহাজে ভারতীয় নাবিকেরা ছিলেন। অন্তত ২০ জন ভারতীয়কে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। এই নিয়ে হরমুজ়ে ভারতীয় নাবিকবাহী তৃতীয় জাহাজে হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী। হামলার পর বৃহস্পতিবারই তারা বিবৃতি দিয়েছে। জানিয়েছে, ওই জাহাজ বেআইনি ভাবে ইরান থেকে তেল পরিবহণ করছিল। নিষেধ গ্রাহ্য করেনি। তাই জাহাজের ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘গিনি-বিসৌয়ের পতাকাবাহী জাহাজ জলবীর ওমান উপসাগর দিয়ে ইরানের তেল পরিবহণ করার চেষ্টা করছিল। আমেরিকান বিমান থেকে ওই জাহাজের ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে পর পর দু’টি ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র ছো়ড়া হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতে পারছিলেন না ওই জাহাজের কর্মীরা।’’
গত ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ় প্রণালী এবং সংলগ্ন অংশে অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা। বলা হয়েছে, ইরান থেকে পণ্য নিয়ে কোনও জাহাজকে তারা হরমুজ় পার করতে দেবে না। আবার, অন্য কোনও দিক থেকে ইরানে পণ্য নিয়ে জাহাজ ঢুকতেও দেওয়া হবে না। সেন্ট্রাল কমান্ডের পোস্ট অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত ন’টি ‘অবাধ্য’ জাহাজকে তারা ধ্বংস করেছে। ১৩৫টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। ১২টি ত্রাণবাহী জাহাজকে ওই জলপথ নির্বিঘ্ন পেরোতে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের হামলার পর ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা মেহর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির পাশ দিয়ে অন্য একটি জাহাজ যাচ্ছিল। তারা ওই জাহাজের ২০ জন কর্মীর মধ্যে থেকে পাঁচ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছে। তবে অন্য একটি সূত্রে দাবি, ২০ জন ভারতীয়কে ওই জাহাজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
হরমুজ় সংলগ্ন জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। সম্প্রতি ওমান উপকূলেই একটি ভারতীয় জাহাজে হামলা হয়। তাতে তিন জন ভারতীয় নিখোঁজ হয়ে যান। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বিবৃতি জারি করেছিল নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রক। তলব করা হয়েছিল নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে। বৃহস্পতিবারও ফের পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপন এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে তার মধ্যেই ওমান উপকূলে ফের আক্রান্ত হলেন ভারতীয় নাবিকেরা।