Raúl Castro

আমেরিকার রোষানলে কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট! রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি চার্জ গঠনের পথে মার্কিন বিচারবিভাগ

মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা সিএনএন-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বিচারবিভাগ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৪:৫৬
US Justice Department working to indict former Cuban president Raul Castro

কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকার রোষানলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো। মার্কিন প্রশাসনের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা সিএনএন-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বিচারবিভাগ। তবে কবে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হবে, সেই বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

Advertisement

ওই সূত্রের দাবি, ৯৪ বছরের প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি চার্জ গঠন হতে পারে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে,১৯৯৬ সালে দু’টি উদ্ধারকারী বিমানে হামলা চালানোর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হতে চলেছে বলে ওই সূত্রের দাবি। ১৯৯৬ সালে ‘ব্রাদার্স টু রেসকিউ’ পরিচালিত দু’টি উদ্ধারকারী বিমান গুলি করে নামায় কিউবার সেনা। সেই সময় রাষ্ট্রের সেনাপ্রধান ছিলেন ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল। ফিদেল কাস্ত্রো ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান। সেই হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক-সহ চার জনের মৃত্যু হয়েছিল।

ওই সূত্র জানিয়েছে, রাউলের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুত সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফ্লরিডার সাদার্ন ডিসট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ তদারক করছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন কিউবার বর্তমান সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। ভেনিজ়ুয়েলার পর কিউবার সরকারকে সরানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মার্চে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কিউবা দখল করে ছাড়বেন। শুধু তা-ই নয়, কিউবাকে ‘দুর্বল’ দেশ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। কিউবার উপরে নানা রকম নিষেধাজ্ঞাও চাপিয়েছে আমেরিকা। তেল রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ৩০ বছর আগের ঘটনায় আবার নতুন করে কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আমেরিকা চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নতুন করে উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রসঙ্গত, ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত কিউবার প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাউল।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত কিউবার প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাউল। ১৯৫৯ সালে ফুলগেনশিও বাতিস্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সচিব নিযুক্ত হন ফিদেল কাস্ত্রো। ২০১১ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তার পর ওই দায়িত্ব যায় রাউলের হাতে। ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্টও ছিলেন ফিদেল। শারীরিক অসুস্থতার জেরে ভাই রাউলকে জায়গা ছেড়ে দেন তিনি। ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট হন রাউল। বিপ্লবের দিনে দাদার ছায়াসঙ্গী হিসেবে সংগ্রাম চালিয়ে যান রাউল। তবে জীবনের বেশির ভাগ সময়টাই ফিদেলের পরিচয়ে পরিচিত হিসেবে কাটিয়েছেন রাউল। তবে শাসনক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর নিজের পৃথক পরিচয় গড়ে তুলতে চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখেননি তিনি। ২০১৪ সালে তিনিই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সমঝোতায় আসতে সক্ষম হন। তবে দেশকে অর্থনৈতিক সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেওয়ায় বিস্তর সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে রাউলকে। ২০১৮-র ১৯ এপ্রিল রাউল দেশের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২১ সালে রাজনীতি থেকে পাকাপাকি ভাবে অবসর নেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন