Strait of Hormuz

হরমুজ় প্রণালী ধরে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজে ফের হামলা চালাল ইরান! তেহরানের কর্তৃত্ব অমান্য করার শাস্তি? উঠছে নানা প্রশ্ন

বৃহস্পতিবার হরমুজ় ধরে এগোচ্ছিল সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’। ওমানের দাহিট বন্দর থেকে ৭.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটির উপর হামলা চালানো হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ০৮:৪৫
হরমুজ় প্রণালীতে ফের পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলা।

হরমুজ় প্রণালীতে ফের পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলা। —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

হরমুজ় প্রণালী ধরে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজের উপর ফের হামলা চালাল ইরান। সংবাদসংস্থা রয়টার্স এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ আমেরিকার দুই আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিসমঝোতা হওয়ার পর এই প্রথম হরমুজ়ে কোনও জাহাজের উপর হামলা চালাল তেহরান।

Advertisement

বৃহস্পতিবার হরমুজ় ধরে এগোচ্ছিল সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’। ওমানের দাহিট বন্দর থেকে ৭.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটির উপর হামলা চালানো হয়। আকাশপথে কোনও ভারী বস্তু নিক্ষেপ করে জাহাজটিকে নিশানা করা হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংস্থা ইউকেএমটিও। এই সংস্থাটি গোটা বিশ্বে জাহাজ পরিবহণ এবং সেগুলির নিরাপত্তার উপর নজর রাখে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের হামলার কারণে জাহাজটির ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হননি।

আমেরিকার সঙ্গে শান্তিসমঝোতা হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়া এবং হরমুজ়ে যখন শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত মিলছে, সেই সময় এই হামলা চালানো হল কেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনার আগেই ইরানের আধাসামরিক বাহিনীর তরফে রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে জানানো হয়েছিল যে, তাদের অনুমতি না-নিয়ে কোনও জাহাজ হরমুজ় অতিক্রম করবে না। পারস্য এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী ওই সঙ্কীর্ণ প্রণালীর উপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতেই তেহরানের ওই ঘোষণা বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে, ওই হুঁশিয়ারির পরেই জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। জাহাজটিকে ইরানের কর্তৃত্ব না-মানার ‘শাস্তি’ দেওয়া হল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠছে শান্তিসমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও। কারণ, শান্তিসমঝোতার শর্তে হরমুজ় ধরে অবাধ জাহাজ চলাচলের কথা বলা হয়েছে। তাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্মতি দিলেও ইরানের তরফে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হরমুজ়ের পরিস্থিতি আর কোনও দিনই যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের মতো হবে না।

ইরানের হামলার পরেই হরমুজ়ে উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)। যুদ্ধের কারণে হরমুজ়ে আটকে পড়া জাহাজগুলিকে উদ্ধার করতে এবং সেগুলিতে থাকা কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এই অভিযান চালাচ্ছিল তারা।

Advertisement
আরও পড়ুন