Pune Businessman Son Murder Case

এত গরমেও পরনে হুডি! কেন? এই একটা প্রশ্নেই মোড় ঘুরে যায় কেতন মৃত্যুরহস্যে, কী করে ধরা পড়লেন সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক

ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে পুলিশের মনে হয়েছিল, ঘুরতে ঘুরতে পাহাড়ে কিনারায় নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান কেতন। যদিও মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০৯:০৭
How a hoodie helped Pune police crack Siya Goyal’s elaborate Lohagad plan

(বাঁ দিকে) সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল পুণের লোহাগড়ে হুডি পরা যুবকের ছবি এবং চেতন চৌধরি (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতনবিশাল অগ্রবালের খুনকে নিছক দুর্ঘটনা বলে সাজানোর পরিকল্পনা ছিল বাগ্‌দত্তা সিয়া গয়ালের! প্রেমিক চেতন চৌধরির সঙ্গে তেমনই ছক কষেছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা বৃথা হয়। নেপথ্যে এক হুডি! পুলিশের মতে, ঘটনার সময় চেতনের গায়ে থাকা হুডিই খুনের রহস্য কিনারা করতে সাহায্য করেছে। পুণে গ্রামীণ পুলিশের যুক্তি, প্রচণ্ড গরমে মধ্যেও হুডি পরা এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহ জাগায়। পরে জানা যায়, ওই যুবকই সিয়ার প্রেমিক চেতন।

Advertisement

পুণের লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হয় কেতনের। ৪৫০ ফুট গভীর খাদের নীচ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে পুলিশের মনে হয়েছিল, ঘুরতে ঘুরতে পাহাড়ের কিনারায় নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান কেতন। যদিও মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য। পুণে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ গিল জানান, তদন্তের শুরুতে কেতনের মৃত্যুর জন্য তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়ার উপর সহানুভূতি জন্মেছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা, যা সন্দেহ জাগায়।

তদন্তের সূত্র ধরে লোহাগড় দূর্গ যাওয়ার পথে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। আর সেই ফুটেজই রহস্য উন্মোচন। সন্দীপের কথায়, ‘‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাই কেতন-সিয়ার গাড়ি অনুসরণ করছেন একজন যুবক। তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। বিশেষ করে ঘটনার দিন অত্যধিক গরম থাকা সত্ত্বেও ওই যুবকের গায়ে ছিল হুডি।’’ কেন গরমে ওই যুবক হুডি পরেছিলেন, তা ভাবায় তদন্তকারীদের। শুধু তা-ই নয়, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজেও ওই যুবকের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

পুলিশের মতে, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে সিয়া এবং ওই যুবকের মধ্যে যোগাযোগ থাকার সন্দেহ জাগে। সেই প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদ আরও জোরাল করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই ভেঙে পড়েন সিয়া। স্বীকার করেন কেতনকে খুনের পরিকল্পনার কথা। তদন্তকারীদের আরও দাবি, কেতনের বাগ্‌দত্তা ২০ বছরের সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। সিয়ার ফোন, সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কল ডিটেল-সহ বেশ কিছু গতিবিধি পরীক্ষা করার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সহকর্মী চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সিয়ার।

আগামী নভেম্বর মাসে সিয়া এবং কেতনের বিয়ে ঠিক করেছিল তাঁদের পরিবার। প্রাথমিক ভাবে দু’জনেই বিয়েতে রাজি ছিলেন। পরিবারও ভেবেছিল তাঁরা খুশি। রাজস্থানের উদয়পুরে ১৭ কোটি টাকা খরচ করে একটি মহল ভাড়া করেছিল কেতনের পরিবার। জুনের প্রথম সপ্তাহেই প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাওয়ার কথা ছিল কেতন-সিয়ার। তাঁরা দু’জনে মুম্বইয়ে যান। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে পাসপোর্ট খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেতন। ফলে বালি যাওয়া ভেস্তে গিয়েছিল। কিন্তু সিয়ার মনে ছিল অন্য পরিকল্পনা। তদন্তকারীদের মতে, কেতন পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেননি। সিয়াই ওই পাসপোর্ট লুকিয়ে ফেলেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে নিয়ে গিয়ে কেতনকে খুন করা। শেষপর্যন্ত ১৮ জুন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেন। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, কিছু দিন আগেও এক বার কেতনকে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন সিয়া। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সেই সময়েও কেতনকে খুনের পরিকল্পনা ছিল চেতন এবং সিয়ার। কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হন।

Advertisement
আরও পড়ুন