মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
মার্কিন সেনেটে ভোটাভুটিতে হেরে গেলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধাক্কা খেল তাঁর যুদ্ধনীতি। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সায় নেই মার্কিন কংগ্রেসের। মাত্র দুই ভোটে হারতে হল রিপাবলিকান নেতাকে। মঙ্গলবার সেনেটে যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ভোটাভুটির ফল হয় ৫০-৪৮। এই প্রথম বার কংগ্রেসের উভয় কক্ষ এমন একটি প্রস্তাব পাশ করল, যা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয় ট্রাম্পকে।
প্রশ্ন উঠছে, কংগ্রেসের এই আপত্তি আদৌ কানে তুলবেন ট্রাম্প? অনেকের মতে, এই ভোটাভুটি সাধারণত প্রতীকী হয়ে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, সেনেটে এই ভোটাভুটির ফল ট্রাম্পের কাছে একটি ধাক্কা। কারণ, এত দিন ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর পদক্ষেপ পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছিল তাঁর দলের অন্দরে। যদিও এই ভোটাভুটির ফল থেকে স্পষ্ট, কিছুটা হলেও ট্রাম্পের নীতিতে খুশি নন তাঁর দলের সদস্যেরাই।
সেনেটে ভোটাভুটির সময় ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স রেজ়োলিউশন-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতাবলে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারেন। ওই সময়সীমা পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন তিনি। এর পর সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় আরও নিতে পারেন। যদিও সেই সময়সীমার ধার ধারেননি ট্রাম্প। অব্যাহত ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান। শেষপর্যন্ত পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনার পরে ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজ়েশকিয়ান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (মউ) সই করেছিলেন। তার পর আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শুরু হয় শান্তি আলোচনা। সেই আলোচনার মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসের এই ‘সিদ্ধান্ত’ প্রকাশ্যে এল।
সংঘর্ষ থামানো নিয়ে মার্কিন সংবিধানের এই আইন নিয়ে প্রথম থেকেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। বার বার তাঁকে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাঁর মতে, এই নিয়ম ‘অসাংবিধানিক’। তাই এটা মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম বিতর্কিত আইনি প্রশ্ন হিসাবেই থেকে গিয়েছে বরাবর। হয়তো এর মীমাংসা আদালতেই হবে। মার্কিন কংগ্রেসের ‘রায়’ও সম্ভবত সাংবিধানিক কারণ দেখিয়ে অবজ্ঞা করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন, মনে করছেন অনেকে। এটি কার্যকর করার দাবিতে কেউ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।