US-Iran Conflict

‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরান শর্তে রাজি হওয়ার কারণেই হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তেহরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়, তবে আবার হরমুজ়ে ইরানের ঘাঁটিতে অবরোধ করবে মার্কিন সেনা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০৮:০৩
Donald Trump insists Iran agreed to nuclear inspections, threatens to cancel peace talks

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

প্রথম দফার শান্তি আলোচনা শেষ। দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। তার মধ্যেই আবার ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, তেহরান আলোচনার টেবিলে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা অস্বীকার করছে। ট্রাম্পের হুমকি, ‘‘ওরা খুব ভুল করছে।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের দাবি উড়িয়ে দিতেই ইরানের দিকে ধেয়ে এল ট্রাম্পের বার্তা।

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, আইএইএ-কে ইরানে প্রবেশের অনুমতি দিতে তেহরান আগেই সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইরান সেই সম্মতি অস্বীকার করায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘ভুল করছে। ওরাও জানে ওরা ভুল করছে।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংযোজন, ‘‘ওরা আমাদের ভিতরে এক কথা বলছে। আমরা তা বুঝেছি।’’ ইরান এখন যদি আইএইএ-কে প্রবেশে বাধা দেয় তবে আসন্ন শান্তিবৈঠক বন্ধ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। অর্থাৎ, শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ আবার দোলাচালে পড়বে।

শুধু ভান্স নন, আইএইএ পরিদর্শন নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ট্রাম্প নিজেও। তিনিও জানিয়েছিলেন, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি পরিদর্শনের জন্য আইএইএ-কে দীর্ঘমেয়াদি অনুমতি দিতে ‘পূর্ণ সম্মত’ হয়েছে। আর সেই কারণেই হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তেহরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়, তবে আবার হরমুজ়ে অবরোধ করবে মার্কিন সেনা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। তাতে নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। একই দিনে ইজ়রায়েলও হামলা চালিয়েছিল ইরানে। সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন রোয়রিং লায়ন’। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত শুরু করেছিল তেহরান। ইজ়রায়েলও তাদের নিশানায় ছিল। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনার পরে ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজ়েসকিয়ান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (মউ) সই করেছিলেন।

তার পর সুইৎজ়ারল্যান্ডে আলোচনায় বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। দফার সেই আলোচনা ‘ইতিবাচক’ বলে দাবি করা হয়েছে। তবে আমেরিকার তরফে একই সঙ্গে এ-ও দাবি করা হয়, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে সুইৎজ়ারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনার পর পূর্বশর্ত হিসাবে, দেশটিতে আবার পরমাণু পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে তেহরান। শান্তিবৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘‘আইএইএ-র সঙ্গে আজই এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।’’ কিন্তু ভান্সের ওই দাবির কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়ে দেয়, কোনও অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে পরমাণুকেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না। আর তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুঝিয়ে দিলেন, ইরান যদি পরমাণু পরিদর্শকদের তাদের দেশে প্রবেশে অনুমতি না-দেয়, তবে ফল ভাল হবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন