US-Cuba Conflict

‘বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে কিউবা দখল করব, আলোচনা চলছে’, ট্রাম্পের মন্তব্যের পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল হাভানা

ভেনেজ়ুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই কিউবার দিকে ট্রাম্পের ‘নজর’ পড়েছে বলে লাতিন আমেরিকা জুড়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শুক্রবার ট্রাম্পের দাবির পরে তা আরও জোরালো হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৪
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

জল্পনা দানা বাঁধছিল বেশ কিছু দিন থেকেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা খোলাখুলি ঘোষণা করলেন শুক্রবার। হোয়াইট হাউসে বসে সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন, লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্র কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে’ দখল করতে সক্রিয় হয়েছে আমেরিকা। এমনকি, এ বিষয়ে প্রয়াত ফিদেল কাস্ত্রোর দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও ট্রাম্পের ওই দাবি পত্রপাঠ খারিজ করেছে হাভানা।

Advertisement

ট্রাম্প সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, কিউবা ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। তাই বামপন্থী দ্বীপরাষ্ট্রটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘‘কিউবার সরকার আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, এবং তারা একটি বড় সমস্যায় পড়েছে। তাদের কাছে কোনও টাকা নেই। তাদের কাছে এখন কিছুই নেই। তবে তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। সম্ভবত আমরা কিউবার বন্ধুত্বপূর্ণ দখল নেব।’’ ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো এ বিষয়ে হাভানা সমাজতান্ত্রিক সরকারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। কিউবাকে ‘পতনের দোরগোড়ায় দাঁড়়িয়ে থাকা ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলেও চিহ্নিত করেন তিনি।

ভেনেজ়ুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই কিউবার দিকে ট্রাম্পের ‘নজর’ পড়েছে বলে লাতিন আমেরিকা জুড়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শুক্রবার ট্রাম্পের দাবির পরে তা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও শনিবার কিউবার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও স্তরেই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনও আলোচনা হচ্ছে না। গত শতাব্দীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-৪৫) শেষ হওয়ার পর ‘ঠান্ডা লড়াই’ (কোল্ড ওয়ার)-য়ে জড়িয়ে পড়েছিল দুই মহাশক্তি— আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। পাঁচের দশকের শেষপর্বে সোভিয়েত-ঘনিষ্ঠ সমাজতান্ত্রিক নেতা কাস্ত্রোর নেতৃত্বাধীন কিউবা আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল। যদিও কাস্ত্রোর মৃত্যুর পরে উত্তেজনা অনেকাংশে প্রশমিত হয়।

সম্প্রতি ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পরে ট্রাম্প সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না— শূন্য! খুব দেরি হওয়ার আগেই আমি তাই দৃঢ় ভাবে তাদের একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি।’’ বিদেশসচিব রুবিয়ো কিউবার বিষয়ে ‘বিশেষ উৎসাহী’ বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রুবিয়োর সঙ্গে কিউবার নাড়ির টান রয়েছে। পঞ্চাশের দশকে কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে বাতিস্তা সরকারের পতনের তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লরিডায় চলে এসেছিল রুবিয়োর পরিবার। রাজনৈতিক জীবনের গোড়া থেকেই কাস্ত্রোকে ‘খুনি এবং স্বৈরাচারী’ বলে বার বার উল্লেখ করেছেন কিউবান বংশোদ্ভূত রুবিয়ো।

Advertisement
আরও পড়ুন