পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের বার্তা তালিবানদের। ফাইল চিত্র।
বিমান হামলার বদলা নিতে এ বার পাকিস্তানের সঙ্গে পুরদস্তুর যুদ্ধের বার্তা দিল আফগানিস্তানের শাসক তালিবান। বৃহস্পতিবার রাতে তালিবানের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইতিমধ্যেই সীমান্তে হামলা শুরু করেছে তাদের বাহিনী! তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ বলেন, ‘‘আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজ়ার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এ বার ওদের (পাকিস্তানি ফৌজ) নরকে পাঠাব।’’
কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালোচিস্তান প্রদেশের কয়েকটি জায়গায় হানা দিয়েছে তালিব সেনারা। খোস্তের আলিশের এবং নঙ্গরহর ও কুনার-সহ পাকিস্তানি ফ্রন্টিয়ার কোরের কয়েকটি চৌকিও আফগান বাহিনী দখল করেছে। নঙ্গরহর, নুরিস্তান, কুনার, খোস্ত, পকতিয়া এবং পকতিকা প্রদেশে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে তালিবান ফৌজের তুমুল সংঘর্ষ চলছে।
শনিবার আফগানিস্তানের নঙ্গরহর এবং পকতিকা প্রদেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তান। সেই হামলায় ১৯ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তার পরই পাক সেনার তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছিল, আফগানিস্তানে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত হয়েছে অন্তত ৭০ জন টিটিপি জঙ্গি। তবে আফগানিস্তান পাল্টা দাবি করে, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাক সেনা। তার পরেই তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, ‘‘এর বদলা আমরা নেব।’’
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে টিটিপি গোষ্ঠীর সঙ্গে পাক সরকারের শান্তিবৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল। তার পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবে অশান্ত হচ্ছে খাইবার পাখতুনখোয়া। ২০২৪ ডিসেম্বরে তালিবানশাসিত আফগানিস্তানের মাটিতে জঙ্গিদের ডেরায় পাক বিমানহানার কথা জানিয়েছিল ইসলামাবাদ। যদিও কাবুল পাল্টা অভিযোগ করেছিল, জঙ্গিরা নয়, সাধারণ গ্রামবাসীরা পাক বিমানহানার শিকার হন। এর পরে গত বছরের ৯ অক্টোবর তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারত সফর শুরুর দিন পাক বিমানহামলা হয়েছিল কাবুল-সহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়। ঘটনার জেরে দু’দেশের বাহিনী সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শেষে কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামবাদ-কাবুল সংঘর্ষবিরতি হয়।
কিন্তু এর পরেও শর্ত লঙ্ঘন করে সীমান্তবর্তী আফগান গ্রামগুলিতে পাক সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নির্দেশে হামলা হয় বলে অভিযোগ তালিবানের। এ ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের পাল্টা দাবি, সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে টিটিপির ডেরাগুলিতে হানা দেওয়া হয়েছে। শুধু টিটিপি নয়, আফগানিস্তানের মাটিতে বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র গোপন ঘাঁটিও রয়েছে বলে পাক সেনার অভিযোগ। প্রসঙ্গত, টিটিপি-কে ‘ফিতনা আল- খোয়ারিজ়’ এবং বিএলএ বিদ্রোহীদের ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে চিহ্নিত করে পাক সরকার এবং সেনা। গত শনিবার রাতে পাক বিমানহানার পরেই তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ জানিয়েছিলেন, দ্রুত প্রত্যাঘাত করা হবে। সপ্তাহ শেষের আগেই ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা’ করল তালিবান।