US Iran Tension

আমাদের হাতে তুলে না দিলেও তেহরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতেই হবে! সমঝোতার সদিচ্ছা দেখাতে নমনীয় ট্রাম্প?

আমেরিকা-ইরান শান্তি সমঝোতার পথে অন্যতম ‘কাঁটা’ তেহরানের কাছে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম। ট্রাম্প বার বার দাবি করে এসেছেন, শান্তি ফেরাতে হলে ইরানকে পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১০:০১
(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের কাছে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে না দিলেও চলবে। তবে তা ধ্বংস করতে হবে। আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে এমনটাই জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক পথে সমাধানে আগ্রহী তিনি। তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রসঙ্গে নিজের সদিচ্ছা দেখাতেই কি কিছুটা নমনীয় হলেন ট্রাম্প? সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যে উঁকি দিতে শুরু করেছে।

Advertisement

সোমবার গভীর রাতে‌ (ভারতীয় সময়ে) সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ইরানে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতেই হবে। তা আমেরিকায় নিয়ে গিয়েও করা যেতে পারে, বা ইরানে, অথবা অন্য কোনও বিকল্প জায়গায়। আমেরিকার পরমাণু শক্তি কমিশন বা অন্য কোনও সমতুল সংস্থার উপস্থিতিতে গোটা প্রক্রিয়াটি হবে।

‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লেখেন, “সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবিলম্বে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হোক— যাতে তা দেশে ফিরিয়ে এনে ধ্বংস করা যায়। অথবা, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যৌথ ভাবে তা ঘটনাস্থলেই কিংবা অন্য কোনও পছন্দের জায়গায় ধ্বংস করা যেতে পারে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেখার জন্য উপস্থিত থাকবে পারমাণবিক শক্তি কমিশন বা তার সমতুল কোনও সংস্থা।”

উল্লেখ্য, আমেরিকা-ইরান শান্তি সমঝোতার পথে অন্যতম ‘কাঁটা’ তেহরানের কাছে মজুত থাকা ইউরেনিয়াম। ট্রাম্প বার বার দাবি করে এসেছেন, শান্তি ফেরাতে হলে ইরানকে পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। গত সপ্তাহে ইসালমাবাদে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও অন্যতম কারণ তেহরানের এই পারমাণবিক কর্মকাণ্ড।

ট্রাম্প এত দিন বলে এসেছেন, ইরানের কাছে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতেই হবে। গত সপ্তাহেও হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। বলেন, ইরানের কাছ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমেরিকা নিজেদের অবস্থান বদলাবে না। তবে সোমবার রাতে তাঁর পোস্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, আপাতত ইরানের প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছেন তিনি।

পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান হল ইউরেনিয়াম। পরমাণু বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে পারমাণবিক বোমা তৈরি সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। ইরানের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই নিজেদের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সন্দেহ, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। এই সন্দেহ থেকেই গত বছরে ইরানের তিন পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা।

উল্লেখ্য, ইরানের প্রতিনিধিদল সোমবার কাতারে গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা কাটিয়ে শান্তি ফেরানোর উদ্দেশ্য কূটনৈতিক আলোচনার জন্যই এই সফর। ঠিক এমন একটি সময়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করার বিষয়ে ইরানকে নতুন প্রস্তাব দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প।

Advertisement
আরও পড়ুন