(বাঁ দিকে) শাহবাজ় শরিফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
পাকিস্তানের সোনা এবং তামার খনিতে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে আমেরিকা। পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালোচিস্তানে রয়েছে ‘রেকো ডিক’ খনি। মনে করা হয়, এই খনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ সোনা এবং তামার ভান্ডার রয়েছে। রেকো ডিক খনিতে সোনা এবং তামা উত্তোলনের জন্য ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
দুষ্প্রাপ্য খনিজের জোগান নিশ্চিত করতে গত বুধবার ‘প্রোজেক্ট ভল্ট’ প্রকল্প চালু করার কথা করেছে আমেরিকা। ১২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে মূলত আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুষ্প্রাপ্য খনিজ সংগ্রহ করা হবে। বিশ্বের বৃহত্তম দুষ্প্রাপ্য খনিজের ভান্ডার রয়েছে চিনে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ধরনের খনিজের প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমেরিকা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে দর কষাকষির পথে হাঁটছে বেজিং। মনে করা হচ্ছে, সেই বাধ্যবাধকতা থেকে নিষ্কৃতি পেতে এবং চিন-নির্ভরতা কাটাতেই দুষ্প্রাপ্য খনিজ সঞ্চয়ে আত্মনির্ভর হতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
‘প্রোজেক্ট ভল্ট’ সংক্রান্ত যে তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে এই প্রকল্পে আমেরিকা বাদে কেবল পাকিস্তানেই অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে এই প্রকল্পের জন্য ঋণ দেবে আমেরিকার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক (এক্সিম)।
বালোচিস্তানের রেকো ডিক খনিটি আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন। পাকিস্তানের এই প্রদেশটি দীর্ঘ দিন ধরেই অশান্তির কারণে শিরোনামে। বালোচ বিদ্রোহী সংগঠনগুলি প্রায়ই পাক সেনার বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছে। তা ছাড়া এই প্রদেশে সক্রিয় রয়েছে আর এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি-ও। বালোচ বিদ্রোহীদের অভিযোগ, মুনাফার লোভে খনিজসমৃদ্ধ বালোচিস্তান প্রদেশকে অন্য রাষ্ট্রের কাছে কার্যত বিক্রি করে দিচ্ছে ইসলামাবাদ। বিনিময়ে বালোচদের জন্য ন্যূনতম উন্নয়নের কাজও করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই প্রদেশের অনেক খনিতে অর্থ বিনিয়োগ করেছে চিনও।