US Iran Tariff War

সামরিক পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা ছেড়ে ইরানের বিরুদ্ধে আচমকা কেন ‘অস্ত্র’ বদল ট্রাম্পের! শুল্ক কোপের সিদ্ধান্ত কার পরামর্শে?

ইরানের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কী ভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়, কী কী কঠোর পদক্ষেপ করা যায়, মার্কিন বাহিনীর সামনে কী বিকল্প রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমেরিকায়। সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৬
(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের বিরুদ্ধে আচমকাই ‘অস্ত্র’ বদল আমেরিকার। চলছিল সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা। সেখান থেকে ঘুরে গিয়ে এ বার বসাল শুল্কের কোপ। তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তৈরি করলেন আর্থিক প্রতিবন্ধকতা। তবে, এটি কোনও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, এখনই ইরানে হামলা না করার জন্য ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।

Advertisement

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। ওই বিক্ষোভে প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন। বিক্ষোভ দমন করতে যে পদক্ষেপ করছে তেহরান, তাতেও অসন্তুষ্ট আমেরিকা। এরই মধ্যে রয়টার্সের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কী ভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়, কী কী কঠোর পদক্ষেপ করা যায়, মার্কিন বাহিনীর সামনে কী বিকল্প রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমেরিকায়। সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু এরই মধ্যে সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে যারা বাণিজ্য করবে তাদের উপরে শুল্ক চাপাবে আমেরিকা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, মার্কিন প্রশাসনের কয়েক জন শীর্ষ আধিকারিক ট্রাম্পকে পরামর্শ দেন যাতে এখনই সে দেশে হামলা না করা হয়। হামলার আগে কূটনৈতিক স্তরে কী কী সম্ভাবনা রয়েছে, তা পরখ করার প্রস্তাব দেন তাঁরা। একই প্রস্তাব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্সও। তার পরেই কূটনৈতিক ভাবে কী ভাবে ইরানকে চাপে ফেলা যায়, সেই দিকগুলি বিবেচনা করে দেখা শুরু হয় হোয়াইট হাউসে। যদিও ভান্সের মুখপাত্র উইলিয়াম মার্টিন জানান, এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। তাঁর কথায়, “ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং বিদেশসচিব রুবিও মিলে প্রেসিডেন্টের কাছে কিছু সম্ভাবনাময় পথ তুলে ধরেন। সেখানে কূটনৈতিক পদক্ষেপ থেকে শুরু করে সামরিক পদক্ষেপ, সবই ছিল।” মার্টিনের দাবি, ভান্স এবং রুবিও কোনও পক্ষপাতিত্ব না করে বিকল্প সম্ভাবনাগুলি তুলে ধরেছেন।

সামরিক পদক্ষেপের দিক থেকে যে ট্রাম্প প্রশাসন পিছিয়ে আসছে, তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল সোমবারই। আচমকা ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান থেকে পরমাণু-সমঝোতার আহ্বান জানানো হয়েছে তাঁকে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এমনকি, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজনও করছেন তিনি, এমনটাও শোনা যাচ্ছিল। এরই মধ্যে হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি বিষয়ে খুব পারদর্শী, তিনি সকল বিকল্প পথকে আলোচনার টেবিলে খোলা রাখেন। সেই অনেক বিকল্পগুলির মধ্যে একটি রয়েছে বিমান হানাও।”

Advertisement
আরও পড়ুন