Donald Trump

ঘুরপথে নোবেল-প্রাপ্তি ট্রাম্পের! হোয়াইট হাউসে গিয়ে নিজের পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিয়ে এলেন ভেনেজ়ুয়েলার নেত্রী

সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমার কাজের জন্য মারিয়া ওঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার আমাকে দিয়ে দিয়েছেন।” ট্রাম্পের পোস্টের পর হোয়াইট হাউসের তরফেও জানানো হয়েছে, এখন থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পের কাছেই থাকবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫০
(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো (ডান দিকে)। বুধবার হোয়াইট হাউসে।

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো (ডান দিকে)। বুধবার হোয়াইট হাউসে। ছবি: সংগৃহীত।

অবশেষে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! তবে এই পুরস্কার তাঁর নিজের অর্জন নয়। ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের নোবেল পুরস্কার তুলে দিলেন ট্রাম্পের হাতে। আগেই অবশ্য নিজের এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েই তিনি তা ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে ওই পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিয়ে এলেন তিনি।

Advertisement

কী কারণে তিনি তাঁর পাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে দিয়ে দিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মাচাদো। তাঁর ব্যাখ্যা, ভেনেজ়ুয়েলায় ‘স্বাধীনতা’ ফেরানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার জন্য তিনি ওই পুরস্কার ট্রাম্পকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই ভেনেজ়ুয়লায় অভিযান চালিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছে আমেরিকার সেনা। কট্টর মাদুরো-বিরোধী হিসাবে পরিচিত মাচাদো ওই ঘটনাকেও দেশে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন মাচাদো। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান মাচাদো। মাচাদোর সঙ্গে বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। মাচাদোর প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, “উনি দারুণ এক জন মহিলা। আমার কাজের জন্য মারিয়া ওঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটা দারুণ নজির এটা। ধন্যবাদ মারিয়া।” ট্রাম্পের পোস্টের পর হোয়াইট হাউসের তরফেও জানানো হয়েছে, এখন থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পের কাছেই থাকবে।

প্রসঙ্গত, আট মাসে আট বার যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে একাধিক বার দাবি করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। প্রতিটি যুদ্ধ থামানোর জন্য একটি করে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। বারাক ওবামার নোবেল-প্রাপ্তি নিয়ে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘উনি কিছুই করেননি।’’ নোবেল শান্তি পুরস্কার না-পাওয়া নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “আমাকে এটা না-দেওয়া বোকামি।’’

তবে মাচাদো বা ট্রাম্প চাইলেই যে পুরস্কার হস্তান্তর সম্ভব নয়, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল নোবেল কমিটি। জানানো হয়, শান্তি পুরস্কার কারও সঙ্গে ভাগ করা, প্রত্যাহার করা বা স্থানান্তরিত করা যায় না। তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, পুরস্কার প্রাপকের নাম এক বার ঘোষণা হয়ে গেলে ওই সিদ্ধান্ত সব সময়ের জন্য বহাল থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন