ওমান উপসাগরে ইরান নৌসেনার জাহাজের উপর হামলা আমেরিকার। ছবি: রয়টার্স।
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১১ থেকে সংখ্যাটা শূন্যে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওমান উপসাগরে ইরানের নৌসেনার ১১টি জাহাজ ধ্বংসের দাবি করে এমনই হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, গত কয়েক দশক ধরে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলির উপর ‘দাদাগিরি’ করে এসেছে ইরান। এ বার ওমান উপসাগরে ইরানের সেই ‘দাদাগিরি’ বন্ধ করতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করল সেন্টকম।
হামলার ভিডিয়ো ফুটেজও প্রকাশ করেছে সেন্টকম (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ইরানের রণতরী আইআরআইএস শহিদ বাঘেরি-কে লক্ষ্য করে হামলার সেই ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে সেন্টকম দাবি করেছে, ‘‘দু’দিন আগেও ওমান উপসাগরে ইরানের আধিপত্য ছিল। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সেই আধিপত্য শেষ করে দিয়েছি। ওই অঞ্চলে মোতায়েন ১১টি জাহাজকে ধ্বংস করা হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে অনেক অত্যাচার হয়েছে। এখন সেই দিন চলে গিয়েছে।’’
প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ অভিযান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ঠিকানায় পর পর হামলা চালানোর পর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে সেন্টকম সেই ভিডিয়োর ক্যাপশনে লিখেছিল, ‘‘ইরানকে অনেক বার সতর্ক করা হয়েছে। সেন্টকম এখন শুধু নির্দেশ পালন করছে।’’ আরও একটি লেখা পোস্ট করে সেন্টকম জানায়, ইরানকে মোক্ষম জবাব দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকার নাগরিকদের জন্য ইরান যথেষ্ট বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল। তাই প্রেসিডেন্ট কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই নির্দেশ মেনেই সেন্টকম ইরানকে মোক্ষম জবাব দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে মেডেল অফ অনার-এ বক্তৃতা করার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান বার বার আমেরিকার সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করে এসেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘‘এই সামরিক সংঘাতে আমেরিকার লক্ষ্য খুব স্পষ্ট, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা।’’ তার পরই হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প, এ ভাবে সীমান্তের বাইরে জঙ্গিদের অস্ত্র দিয়ে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারে না ইরান। পাশাপাশি, এই সংঘাত নিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এত সহজে এই সংঘাত থামার নয়। কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে। প্রয়োজনে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।