US-Iran Conflict

হামলার আশঙ্কায় প্রায় ৭০০ ট্যাঙ্কার দাঁড়িয়ে রয়েছে হরমুজ় প্রণালীতে! টান পড়ছে বিশ্বের তেল-ভাঁড়ারে, কী ভাবছে দিল্লি

প্রতি দিন গোটা বিশ্বে রফতানিযোগ্য তেলের ২০ শতাংশ যায় এই হরমুজ় প্রণালী ধরে। আর ভারতের আমদানি করা ৫০ শতাংশ তেল হরমুজ় হয়েই আসে। এই পরিস্থিতিতে ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ভারতও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৪
হরমুজ় প্রণালীতে টহল ইরানের সেনাবাহিনীর।

হরমুজ় প্রণালীতে টহল ইরানের সেনাবাহিনীর। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের হুমকির জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু প্রণালীর দুই পারে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৭০০টি ট্যাঙ্কার। এগুলির মধ্যে ৩৩৪টি ট্যাঙ্কার অশোধিত তেল বহন করছে। কিন্তু ট্যাঙ্কারগুলি ইরানের পতাকাবাহী না-হওয়ায় হামলার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ তেহরান হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী ধরে অন্য দেশের ট্যাঙ্কার বা জাহাজ গেলে তারা সেগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেবে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ ধরে এগোনোর চেষ্টা করছেন না নাবিকেরা।

Advertisement

সামুদ্রিক পণ্য পরিবহণের উপর নজরদারি চালানো দুই সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’ এবং ‘কেপলার’-এর পরিসংখ্যান বলছে, গত রবিবার মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার মোট ২৮ লক্ষ ব্যারেল নিয়ে হরমুজ় পেরোতে পেরেছিল। সোমবার মাত্র একটি ছোট ট্যাঙ্কার হরমুজ় পেরোনোর ‘দুঃসাহস’ দেখাতে পেরেছে। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী ধরে ১ কোটি ৯৮ ব্যারেল তেল রফতানি করা হয়েছে। কিন্তু এখন তা ৮৬ শতাংশ কমে গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই, পশ্চিম এশিয়ার তেল এবং অন্যান্য জ্বালানির উপর নির্ভরশীল দেশগুলির ভাঁড়ারে ক্রমশ টান পড়ছে।

চিন এবং ভারত অনেকাংশেই অশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভর করে থাকে। প্রতি দিন গোটা বিশ্বে রফতানিযোগ্য তেলের ২০ শতাংশ যায় এই হরমুজ় প্রণালী ধরে। আর ভারতের আমদানি করা ৫০ শতাংশ তেল হরমুজ় হয়েই আসে। এই পরিস্থিতিতে ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ভারতও। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পদার্থের জোগানের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আপাতত অন্য দেশে তেল রফতানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অশোধিত তেল ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরশীল নয়াদিল্লি। দেশে মোট চাহিদার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসই অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয় ভারতকে। আর আমদানিকৃত গ্যাসের সিংহভাগ আসে হরমুজ় প্রণালী হয়েই।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া, ব্রাজ়িল থেকে তেল এবং গ্যাস আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে ভারত। যদিও কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, আপাতত দেশে বেশ কয়েক দিনের তেল মজুত রয়েছে। তাই স্বল্প মেয়াদে হরমুজ় বন্ধ থাকলেও চিন্তার কারণ নেই। তবে এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প উপায় ভাবতে হতে পারে ভারতকে।

Advertisement
আরও পড়ুন