(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টের জবাব দিল ইরান। সে দেশের সেনা সদর দফতরের প্রতিনিধি জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি বলে দিলেন, ট্রাম্প ‘নির্বোধের মতো কাজ’ করছেন। পাল্টা হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে তেহরানের তরফে।
শান্তিচুক্তি স্থাপন করা এবং হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণ স্বাভাবিক করার জন্য ইরানকে গত ২৬ মার্চ ১০ দিন সময় দিয়েছিলেন ট্রাম্প। জানিয়েছিলেন, এই সময়সীমার মধ্যে ইরান সম্মত না-হলে আমেরিকা আরও কঠোর পদক্ষেপ করবে। সেই সময়সীমা শেষ হতে বাকি আর দিন দুয়েক। আগামী ৬ এপ্রিল ১০ দিন সম্পূর্ণ হবে। ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ইরানকে সেই সময়সীমার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। লিখেছিলেন, আর ৪৮ ঘণ্টা বাকি। তার মধ্যে চুক্তি না করলে নরক নেমে আসবে তেহরানের উপর। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির জবাব দিয়েছেন আবদোল্লাহি। বলেছেন, ‘‘হার স্বীকার করে নেওয়ার পর আমেরিকার আগ্রাসী এবং যুদ্ধবাদ প্রেসিডেন্ট মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অসহায়, ভারসাম্যহীন এবং নির্বোধের মতো কাজ করছেন তিনি। ইরানের পরিকাঠামো এবং জাতীয় সম্পদকে নিশানা করার ভয় দেখাচ্ছেন।’’
ট্রাম্পকে পাল্টা হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আবদোল্লাহি। জানিয়েছেন, যে কোনও মার্কিন বা ইজ়রায়েলি আক্রমণের জবাব দেবে ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক কাঠামো, ইজ়রায়েলি অবকাঠামোগুলির উপর আরও বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে। অবিরাম হামলা শুরু হবে। ট্রাম্পের ভাষা ব্যবহার করে আমেরিকার সামনে ‘নরকের দ্বার’ খুলে দেওয়া হবে বলেও দাবি করেছেন আবদোল্লাহি। জানিয়েছেন, দেশের অধিকার সুরক্ষিত করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবেন না ইরানের সেনা জওয়ানেরা।
ইরানকে একাধিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। একাধিক বার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কোনও সমাধান মেলেনি। ২৬ মার্চের আগে গত ২১ মার্চ ইরানকে আরও এক বার ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, হরমুজ়ের পথ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়া না হলে ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎ পরিকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দেবে আমেরিকা। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তেমন কোনও পদক্ষেপ আসেনি। বরং ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অনুরোধে তিনি সময়সীমা বৃদ্ধি করেছেন। তাঁর এই ধরনের হুঁশিয়ারিকে আর তেহরান যে তেমন গুরুত্ব দিতে চাইছে না, আবদোল্লাহির কথায় সেই ইঙ্গিতই মিলল। অন্য দিকে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। পাকিস্তানও মধ্যস্থতায় উদ্যোগী হয়েছে। তবে তাতেও এখনও সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি।