মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। ফাইল চিত্র।
ইরান যদি সমঝাতায় রাজি না হয় কিংবা বৈঠক যদি আবার ব্যর্থ হয়, তা হলে কী হবে? আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপই বা কী হতে পারে, এক সাক্ষাৎকারে সেই বার্তাই দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, এই সমঝোতা না হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফক্স নিউজ়-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিয়ো বলেন, ‘‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরানের উপর যে সব নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, যে পর্যায়ের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা যদি অতিরিক্ত মনে হয়, আমার মনে হয় আগামী দিনে ইরানকে এর থেকেও অনেক বেশি কিছু সহ্য করতে হবে।’’ কী ধরনের পদক্ষেপ করা হতে পারে এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই কিছুটা ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন রুবিয়ো। তা হলে কি ইরানকে আরও কোণঠাসা করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল আমেরিকা? রুবিয়োর এই বক্তব্যের পরই সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার বৈঠক হবে হবে করেও হচ্ছে না। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, বন্দুকের নলের মুখে রেখে তাদের আলোচনার টেবিলে বসানো যাবে না। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকা যদি তাদের আগের দেওয়া প্রস্তাব থেকে সরে না আসে, তা হলে শান্তিবৈঠক হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। ইরান বেঁকে বসায়, চাপ বেড়েছে পাকিস্তানের উপরেও। কারণ দু’দেশের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তান প্রথম থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এপ্রিলে দুই বিবদমান দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও আলোচনার মাধ্যমে স্থির হয়। তার পরই দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসানোর বন্দোবস্ত করে ইসলামাবাদ। কিন্তু ঘটনাচক্রে দেখা গিয়েছে, শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক অমীমাংসিতই থেকে গিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আবার নতুন করে উত্তপ্ত হতে শুরু করে। যুদ্ধবিরতি হলেও হরমুজ় ইরানের দখলমুক্ত করতে পারেনি আমেরিকা। বরং ইরানকে ‘শায়েস্তা’ করতে হরমুজ়ের দু’প্রান্তের জলপথ পাল্টা অবরুদ্ধ করেছে আমেরিকা।
দ্বিতীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের জন্য যখন মার্কিন প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে পৌঁছোন, তার আগেই পাকিস্তান ছেড়ে চলে আসেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়ে এসেছে পাকিস্তানের কাছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধ না থামালে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনও আলোচনায় বসতে রাজি নয় তারা। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ইরানের এই প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, পরমাণু কর্মসূচিকে আলোচনার তালিকায় রাখতেই হবে ইরানকে, এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।