(বাঁ দিক থেকে) নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ভারতকে কেন রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে আমেরিকা? তার আরও এক বার ব্যাখ্যা দিল মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান, ভারত তাঁদের ‘ভাল বন্ধু’ এবং ‘ভাল কাজ’ করেছে, তাই ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়েছে! তিনি দাবি করেন, আমেরিকার কথা শুনেই ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছিল। তাই ‘সঙ্কটকালে’ ভারতে রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ‘ছাড়পত্র’ দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে ভারতকে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর আমেরিকার মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়ে মার্কিন প্রশাসন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য যে রাশিয়ার তেলের বাজার বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছিল মার্কিন প্রশাসন, তাতেই আবার ছাড়! বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়তে আমেরিকা বার বার তাদের ‘সিদ্ধান্তের’ পক্ষে সাফাই দিয়েছে। তারা এ-ও জানিয়েছে, ‘অনুমতি’ নয়, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ব্যাপারে ভারতকে ‘অনুরোধ’ করা হয়েছে।
সেই বিষয় উল্লেখ করে ক্যারোলিন বলেন, ‘‘আমরা এই সিদ্ধান্তে এসেছি, কারণ, আমাদের বন্ধু ভারত ভাল ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক অতীতে নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে তেল কেন বন্ধ করেছিল। তবে বর্তমানে ইরানের কারণে বিশ্বে তেল সরবরাহে এক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে তাই আমরা ভারতকে সাময়িক ভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছি।’’
ক্যারোলিন আরও ব্যাখ্যা করে জানান, ভারতকে যে রাশিয়ার তেল কিনতে বলা হয়েছে, ,সেই তেলভর্তি জাহাজগুলি ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছে। অন্য কোথাও যাওয়ার পরিবর্তে, তা ভারতের বন্দরে নোঙর করতে পারে। আমেরিকা মনে করে, এতে রাশিয়া তেমন ভাবে আর্থিক লাভবান হবে না। এই সব বিবেচনা করেই রাশিয়ার তেলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। প্রতি দিন গোটা বিশ্বে যত তেল রফতানি হয়, তার ২০ শতাংশই যায় এই হরমুজ় প্রণালী হয়ে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় প্রণালীর দুই ধারে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কার। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে।
ইরানের অবরোধের ফলে ভারতের তেলের বাজারে জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে আমেরিকা জানায়, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দিচ্ছে তারা। তবে ‘শর্ত’ একটিই। তা হল, এই ছাড় কেবল সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সে সময় মার্কিন ট্রেজ়ারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও জানিয়েছিলেন, এই ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে, কারণ ভারত সব সময় ‘ভাল ভূমিকা’ পালন করে আসছে! তা পুনর্ব্যক্ত করলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব।