China's Birth Control Policy

বছরের প্রথম দিন থেকেই চিনে কন্ডোম, জন্মনিরোধক বড়ির উপর চাপল ১৩ শতাংশ ভ্যাট! ‘ভুলের সংশোধন’ চায় বেজিং

এক সময় জনসংখ্যাই চিনের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। ১৯৭৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চিনে চালু ছিল ‘এক সন্তান’ নীতি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪১
চিনে কন্ডোম, জন্মনিরোধক বড়ির উপর চাপল ১৩ শতাংশ ভ্যাট।

চিনে কন্ডোম, জন্মনিরোধক বড়ির উপর চাপল ১৩ শতাংশ ভ্যাট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বছরের প্রথম দিন থেকেই চিনে মহার্ঘ হল কন্ডোম এবং জন্মনিরোধক বড়ি। এই দুই জিনিসের উপর চাপল ১৩ শতাংশ অতিরিক্ত কর (ভ্যাট)। চিনে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের উপর ওই পরিমাণ ভ্যাট ধার্য হলেও এত কাল কন্ডোম এবং জন্মনিরোধক ব়ড়ির উপর ছাড় ছিল। এ বার সেই ছাড় প্রত্যাহার করে নিল সরকার। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বেজিঙের ‘ভুল সংশোধনের’ প্রয়াস আছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

বেশ কয়েক বছর ধরেই আর্থিক এবং সামাজিক দু’দিক থেকেই দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে চিন। দীর্ঘ দিন ধরেই জনসংখ্যা হ্রাসের সমস্যায় ভুগছে চিন। সূত্রের খবর, চিনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। করোনা অতিমারি বিশ্বের অন্যতম জনবহুল এই দেশটিকে বিবিধ সমস্যার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল জন্মহার উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পাওয়া। ভারত যখন হন্যে হয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজছে, তখন ঠিক তার বিপরীত ছবি ধরা পড়েছে চিনের বিভিন্ন শহরে। চিনের নাগরিকদের আরও সন্তান ধারণে উৎসাহিত করছে শি জিনপিং সরকার। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করতে নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে বেজিং।

চিনে জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভর্তুকি ঘোষণা করতে হয়েছে। যে সমস্ত পরিবারে সন্তানের জন্ম হবে, তাদের হাতে হাতে নগদ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বেজিং। দম্পতিদের আরও বেশি সংখ্যক সন্তানগ্রহণে উৎসাহিত করতে জন্মনিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যের উপর অতিরিক্ত কর বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় শি জিনপিঙের সরকার। বছরের প্রথম দিন থেকে সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করা হল।

এক সময় জনসংখ্যাই চিনের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। ১৯৭৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চিনে চালু ছিল এক সন্তান নীতি। অএই নীতি অনুযায়ী, একটির বেশি সন্তান গ্রহণ করতে পারতেন না দম্পতিরা। তবে ২০১৬ সালে সেই নিয়ম তুলে নেয় বেজিং। ওই সময়ে কন্ডোমের উপর থেকে কর তুলে নিয়েছিল চিনা প্রশাসন। এক সন্তান নীতিকে ফলপ্রসূ করতে চিনা নাগরিকদের গর্ভপাত ও গর্ভ নিয়ন্ত্রণে প্রবল উৎসাহ দিয়েছিল বেজিং। সেই সূত্রেই চালু করা হয় বন্ধ্যত্বকরণ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্র পরিচালিত নানা প্রকল্পও।

পরিসংখ্যান বলছে, এক সন্তান নীতি বিলোপের পর ২০১৬ সালে চিনে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ শিশুর জন্ম হয়েছিল। ২০২৪ সালে ৯৫ লক্ষে নেমে এসে প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে জন্মহার। টানা তিন বছর ধরে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে চিনে। ২০২২ সালে প্রতি ১০০০ জনে জন্মহার ছিল মাত্র ৬.৭৭ জন। ১৯৪৯ সালে চিনে কমিউনিস্ট পার্টির সূচনালগ্ন থেকে এমন পরিসংখ্যান কখনও দেখা যায়নি। ২০২৪ সালে ভারত জনসংখ্যার নিরিখে চিনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের জনবহুল দেশের তকমা পায়। তার পরেই জন্মহার বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠে জিনপিঙের সরকার।

Advertisement
আরও পড়ুন