US-Venezuela Conflict

ভেনেজ়ুয়েলার তেল বিক্রি করে মুনাফা চান ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কতটা

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অশোধিত তেলের ভান্ডার (৩০,৩০০ কোটি ব্যারেল) রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলায়। ইতিমধ্যেই সে দেশের তেল উত্তোলনের পরিকাঠামো মেরামত করে অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৯
Will Donald Trump’s Venezuela oil plan work smoothly

ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভেনেজ়ুয়েলার তেল বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করতে চায় আমেরিকা। নিজের এই ইচ্ছার কথা গোপন করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তবে তাঁর এই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হওয়া এত সহজ নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বহু অর্থ এবং সময় ব্যয় করার পরে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আংশিক সফল হলেও হতে পারে বলে মত তাঁদের।

Advertisement

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অশোধিত তেলের ভান্ডার (৩০,৩০০ কোটি ব্যারেল) রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলায়। সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ আমেরিকার ওই দেশের তেল উত্তোলনের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। আমেরিকার তেল সংস্থাগুলি নতুন করে পরিকাঠামো তৈরি করে দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অনেকগুলি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রথমত, এর পর ভেনেজ়ুয়েলায় যে সরকারই আসুক, সেই সরকারের কাছ থেকে তেল উত্তোলনের জন্য অনুমতিপত্র আদায় করতে হবে প্রতিটি সংস্থাকে। সেই অনুমতি পেলে, তবেই সংস্থাগুলি পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে অর্থ বিনিয়োগ করবে। পরিকাঠামো তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিপুল পরিমাণ তেল উত্তোলন করা যাবে, এমনটা মনে করছেন না কেউই। স্বাভাবিক ভাবেই পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল উত্তোলন করে এবং তা বিক্রি করে মুনাফা অর্জনের জন্য অনেকটা সময় লাগবে মার্কিন সংস্থাগুলির।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বরে প্রতি দিন ৮ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন হয়েছে ভেনেজ়ুয়েলায়। ১০ বছর আগে ভেনেজ়ুয়েলায় যে পরিমাণ তেল করা উত্তোলন হত, এটি তার এক-তৃতীয়াংশ। তাই বিশ্বের বৃহত্তম তৈলভান্ডার থাকলেও তেল রফতানিতে ভেনেজ়ুয়েলা অনেক পিছিয়ে। ২০০০ সালে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর উগো চাভেজ় এবং পরবর্তী সময়ে মাদুরো তেল উত্তোলনের কাজ কঠোর ভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিলেন। তাই ভেনেজ়ুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ছাড়া অন্য সংস্থাগুলি তেল উত্তোলনের কাজে সে ভাবে যুক্ত হতে পারেনি। তাই পরিকাঠামোগত উন্নয়নও সে ভাবে হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ এ-ও জানাচ্ছেন যে, ভেনেজ়ুয়েলার অশোধিত খনিজ তেল চরিত্রগত ভাবে ভারী। তাকে শোধন করতে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হবে। শোধিত এই তেল বড়জোর ডিজ়েল এবং অ্যাসফল্ট তৈরি করতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে মত তাঁদের। অন্য দিকে, আমেরিকার সংস্থাগুলি মূলত হালকা তেল উত্তোলনে আগ্রহী, যা পরে পেট্রল হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। ভেনেজ়ুয়েলায় তেল উত্তোলনের কাজে যুক্ত রয়েছে ‘চেভরন’ নামে একটি সংস্থা। তারা ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। কিন্তু অন্য মার্কিন সংস্থাগুলি ভেনেজ়ুয়েলার এই পরিস্থিতির পরেও চুপ। অন্তত প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেনি। স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে বিস্তর ফারাকের বিষয়টি বুঝতে পেরেই তারা নীরব কি না, এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement
আরও পড়ুন