Climate Change

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত

ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এইচ ই বেনেডিক্ট হস্কুল্ডসন বলেন, আইসল্যান্ডের জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে কলকাতার ভবিষ্যতের সরাসরি যোগ রয়েছে।

এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো
শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৭:০৬
আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার কথা আলোচনা করলেন

আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার কথা আলোচনা করলেন

আইসল্যান্ডের জলবায়ু সংকটের প্রভাব কলকাতার ওপরও পড়তে পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন।

ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এইচ ই বেনেডিক্ট হস্কুল্ডসন বলেন, আইসল্যান্ডের জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে কলকাতার ভবিষ্যতের সরাসরি যোগ রয়েছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী, প্রো-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা।

সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বেনেডিক্ট হস্কুল্ডসন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি সংকট, যা আমাদের সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আসে। প্রায় দ্বিগুণ হারে আইসল্যান্ডে তাপমাত্রা বাড়ছে। ২০১৯ সালে আমরা ওকইয়োকুল নামের একটি হিমবাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করি এবং তার জন্য শেষকৃত্যের আয়োজন করি। কারণ হাজার হাজার বছর ধরে থাকা সেই হিমবাহটি সম্পূর্ণ গলে গিয়েছিল। হিমবাহগুলো আমাদের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, পানীয় জল এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এগুলো শেষ হয়ে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই বড় ক্ষতির ইঙ্গিত। হিমবাহ ছাড়া আইসল্যান্ড একেবারেই অন্যরকম একটি দেশ হয়ে যাবে। আইসল্যান্ডের হিমবাহ গলে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। গঙ্গার তীরে অবস্থিত কলকাতা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর মধ্যে একটি। তাই আইসল্যান্ডে যা ঘটছে, তার প্রভাব কলকাতাতেও পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আইসল্যান্ডের সাফল্য তাই কলকাতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “আইসল্যান্ড শুধু সমস্যা নিয়ে কথা বলতে আসেনি, সমাধানও নিয়ে এসেছে। আমাদের দেশের ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে ভূগর্ভের তাপ এবং জলবিদ্যুৎ থেকে। ভারতের লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় এই ধরনের শক্তির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আইসল্যান্ডের কাছে এই শক্তির ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।”

কার্বন নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রযুক্তি তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে মাটির নিচের বিশেষ ধরনের পাথরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে মাত্র দুই বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া, এই কার্বন ডাই-অক্সাইডকে গ্রিন হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে মিথানল নামে একটি জ্বালানি তৈরি করা যায়, যা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়।”

দুই দেশের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে বেনেডিক্ট হস্কুল্ডসন বলেন, “ভারত ও আইসল্যান্ডের মধ্যে আগে থেকে খুব বেশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু আমরা সচেতনভাবেই একে অপরের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত ১৪ বছর ধরে আইসল্যান্ড ও তার ইএফটিএ সহযোগী দেশগুলো ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি করেছে। সমান মর্যাদাসম্পন্ন দুটি স্বাধীন দেশের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা খুবই বিরল।”

এই অনুষ্ঠানে সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী বলেন, “পরিবেশ রক্ষা, নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে আইসল্যান্ড বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং নতুন উদ্ভাবন নিয়ে এই আলোচনা আমাদের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, এই মতবিনিময় ভারত ও আইসল্যান্ডের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ ও সহযোগিতার পথ খুলে দেবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানান অসলো সামিট এবং ভারত-আইসল্যান্ডের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন আলোচনার ফলে জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যখন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্‌যাপন করছে, তখন এই সফরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

এটি একটি স্পনসর্ড প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনটি ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

আরও পড়ুন