Office Politics

‘কাজ করি আমি, পদোন্নতি হয় অন্যের’, অফিসের রাজনীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে ১৮ বছরের চাকরি ছাড়লেন যুবক, দিলেন পরামর্শও

ধর্মেন্দ্র জানান, পরিবারের সম্পূর্ণ ভরণপোষণ তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও তিনি সম্প্রতি তাঁর দীর্ঘ দিনের কর্পোরেট চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘জীবনে আমি এতটা প্রাণবন্ত আর কখনও অনুভব করিনি।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৮:০১
Man quits 18-year corporate career accusing office politics, video goes viral

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

অফিসের ‘রাজনীতি’তে অতিষ্ঠ হয়ে ১৮ বছরের কর্পোরেট কেরিয়ার ছাড়লেন এক কর্মী। ওই যুবকের দাবি, অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেলেও পদোন্নতি সবসময় অন্য কেউ পেতেন। ৩৮ বছর বয়সি ওই কর্পোরেট কর্মীর নাম ধর্মেন্দ্র এস পাণ্ডে। তাঁর দাবি ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ধর্মেন্দ্রের একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

Advertisement

ওই ভিডিয়োয় পেশায় প্রাক্তন কর্পোরেট কোচ ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, মাত্র ছ’মাস চলার মতো আর্থিক সঞ্চয় থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর ১৮ বছরের কর্পোরেট কেরিয়ার ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত পেশাদারদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান একটি মানসিকতার প্রতিফলন, যেখানে তাঁরা এমন চাকরি আঁকড়ে থাকার চেয়ে মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত আত্মতৃপ্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, যেখানে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।

ভিডিয়োয় ধর্মেন্দ্র জানান, পরিবারের সম্পূর্ণ ভরণপোষণ তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও তিনি সম্প্রতি তাঁর দীর্ঘ দিনের কর্পোরেট চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘জীবনে আমি এতটা প্রাণবন্ত আর কখনও অনুভব করিনি।’’

কর্মজীবনের কথা বলতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র জানান, তিনি একাধিক সংস্থায় কাজ করেছেন এবং সবসময়ই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু করার চেষ্টা করেছেন। তিনি নিজেকে এমন এক জন কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেন যিনি নিয়মিত অফিসের নির্ধারিত সময়ের পরেও কাজ করতেন, নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতেন, জটিল সমস্যা বা সঙ্কট সামাল দিতেন এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের বাইরেও বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এমন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরেও তিনি লক্ষ করতেন যে, পদোন্নতি ও স্বীকৃতি অন্যদের ভাগ্যে জুটত। ফলে কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।

প্রাক্তন কর্পোরেট কর্মী জানিয়েছেন, কর্পোরেট কেরিয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। কারণ, ১০ বছর বয়সি এক কন্যার বাবা হওয়ায় কারণে আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টি অস্বীকার করার জায়গা নেই। বড় কোনও আর্থিক সুরক্ষা বা বিশাল সঞ্চয় না থাকায় তিনি ছ’মাসের ‘ব্যাকআপ ফান্ড’ বা জরুরি তহবিলের উপর এবং প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতায় অর্জিত দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসের ওপর ভরসা রেখেছেন বলেই দাবি ধর্মেন্দ্রের। পাশাপাশি কর্পোরেট জগতের বাকি কর্মীদেরও নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ধর্মেন্দ্রের ভি়ডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ধরমবিল্ডস’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ধর্মেন্দ্রের কাহিনি অনলাইনে অনেক পেশাজীবীর মনে সাড়া জাগিয়েছে, বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে, যাঁরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও নিজেদের অবমূল্যায়িত বা উপেক্ষিত বলে মনে করেন।

Advertisement
আরও পড়ুন