Sick Leave

অসুস্থতাজনিত ছুটি বার বার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বস্‌, অফিসের শৌচাগারেই মৃত্যু ২৯ বছর বয়সি তরুণী কর্মীর

গসিনার পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ জানা সত্ত্বেও তাঁর সংস্থার তরফে কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি। মৃতার এক আত্মীয়ের দাবি, গত কয়েক দিনে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দু’বার অসুস্থতাজনিত ছুটির (সিক লিভ) আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১৮:১০
After bosses repeatedly denied sick leave Young woman dies in office washroom

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

অসুস্থতাজনিত ছুটি বার বার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বস্‌। অফিসের শৌচাগারেই মৃত্যু হল ২৯ বছর বয়সি এক তরুণী কর্মীর। সংবাদমাধ্যম ‘আইউইটনেস নিউজ়’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। অসুস্থতার কারণে বার বার ছুটি চেয়েও না পাওয়ার পর ২৯ বছর বয়সি তরুণী কর্মী গসিনা ধলাধলাকে অফিসের শৌচাগারে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোহানস্‌বার্গের রোজ়ব্যাঙ্কের ‘কারট্র্যাক’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে কল সেন্টার এজেন্ট হিসাবে কাজ করতেন গসিনা। তাঁর পরিবার এবং সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ এবং ক্লান্ত বোধ করছিলেন কয়েক দিন ধরে। তা সত্ত্বেও অসুস্থতার কারণে তাঁর ছুটির আবেদনগুলি নাকচ করা হয়েছিল। এ ছাড়াও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাস্তার ঠিক উল্টো দিকেই একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সেখানে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তাঁর বস্‌ তাঁর সমালোচনা করেছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসার খরচ কে বহন করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গসিনার এক সহকর্মী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গসিনার মৃত্যুর নেপথ্যে সংস্থাটিরই ‘বড় ভূমিকা’ ছিল। ওই সহকর্মী বলেন, ‘‘শুক্রবার গসিনা হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, ‘আমি অসুস্থ। অথচ শরীর ভাল নেই বলে জানানোর পরেও শনিবার আমাকে কাজে আসতে বলা হয়েছে।’’’ গসিনার সহকর্মী আরও জানান, মৃত্যুর আগের দিনও তরুণীকে বেশ বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল। সহকর্মীর কথায়, ‘‘সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হল, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমাদের টিম লিডার গসিনাকে অফিসে ডেকেছিলেন। তাঁরা কী নিয়ে আলোচনা করছিলেন তা আমি শুনিনি, তবে কথা বলার সময় আমি তাঁকে চশমা খুলে কাঁদতে দেখেছি।’’

গসিনার ওই সহকর্মী আরও বলেন, ‘‘গসিনার মৃত্যুর নেপথ্যে সংস্থার বড় ভূমিকা ছিল। আমি জানি মৃত্যুকে ঠেকানো যায় না, কিন্তু শৌচাগারের ভেতরে এমন ভাবে মারা যাওয়াটা তাঁর প্রাপ্য ছিল না। হয়তো তাঁর পরিবার তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারত এবং হয়তো তাঁর প্রাণ বাঁচত। অন্তত শৌচাগারের একটি ছোট প্রকোষ্ঠে একা মারা যাওয়ার বদলে তিনি প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারতেন। গসিনার মৃত্যু সম্মানজনক ছিল না।’’

গসিনার পরিবারেরও অভিযোগ, গসিনা অসুস্থ জানা সত্ত্বেও তাঁর সংস্থার তরফে কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি। মৃতার এক আত্মীয়ের দাবি, গত কয়েক দিনে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দু’বার অসুস্থতাজনিত ছুটির (সিক লিভ) আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমে ওই আত্মীয় বলেন, ‘‘আমাকে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হয়েছিল। কারণ, সংস্থার ম্যানেজার আমার ভাইঝির জীবন বাঁচানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে খরচ নিয়ে ভাবছিলেন। বিল কে পরিশোধ করবে, তা নিয়েই ওঁরা বেশি চিন্তিত ছিলেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘সংস্থার ঊর্ধ্বতনেরা আমাকে বলেছিলেন যে তাঁরা অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু তাঁদের কাছে কোনও রেফারেন্স নম্বর ছিল না। গসিনার হৃৎস্পন্দন কমে আসছিল, কিন্তু তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি।’’

যদিও সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে কারট্র্যাক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থার এক ডিরেক্টর লরেন হিউম্যান বলেছেন, ‘‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসাকর্মীদের কাছে একটি ‘অটোমেটিক এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর’ (হৃদ্‌যন্ত্র সচল রাখার যন্ত্র) ছিল এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছিল।’’

গসিনার মৃত্যু সারা দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে হইচই ফেলেছে। ঘটনাটি কর্মীদের স্বাস্থ্য এবং অসুস্থতাজনিত ছুটি অনুমোদন সংক্রান্ত কর্মক্ষেত্রের নীতিমালা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সমাজমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।

Advertisement
আরও পড়ুন