—প্রতীকী চিত্র।
একেই বুঝি বলে সোনার দৌড়!
গত বছরের শুরুতে শহর কলকাতায় খুচরো পাকা সোনার (১০ গ্রাম, ২৪ ক্যারাট) দাম ছিল ৭৭,১৫০ টাকা (জিএসটি বাদে)। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ তা ১,৩৪,৩৫০ টাকা পৌঁছয়। অর্থাৎ, এক বছরের মধ্যে দামের উত্থান প্রায় ৭৪%। রুপোর গতি ছিল আরও বেশি। ১ কেজি খুচরো রুপো ৮৬,৩৫০ টাকা থেকে পৌঁছে গিয়েছে ২,৩৫,০৫০ টাকা। দাম বেড়েছে প্রায় ১৭২%। এই দৌড় কি অব্যাহত থাকবে? নাকি অপেক্ষা করছে বড় সংশোধন?
গত ২৭ ডিসেম্বর সোনা এবং রুপোর দাম সর্বকালীন নজির ছোঁয়। কলকাতায় খুচরো পাকা সোনা পৌঁছয় ১,৪০,২৫০ টাকায়। ৩% জিএসটি ধরে ১,৪৪,৪৫৭.৫ টাকা। ১০ গ্রাম গয়না সোনা ১,৩৩,৩০০ টাকায় পৌঁছেছিল। কর যোগ করে ক্রেতাকে দিতে হয়েছিল ১,৩৭,২৯৯ টাকা। সে দিন খুচরো রুপো হয়েছিল ২,৪৬,৩০০ টাকা। কর যোগ করে দাম ২,৫৩,৬৮৯ টাকায় পৌছেছিল। রুপোর বাটের দাম ১০০ টাকা বেশি। সে দিন ছিল শনিবার। তার পর থেকে চার দিনে দুই ধাতুরই দাম টানা কমেছে। বৃহস্পতিবার বছরের প্রথম দিনে খুচরো পাকা সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৩৪,৩৫০ টাকা। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে তা ৫৯০০ টাকা কমেছে। খুচরো রুপো ১৬,০০০ টাকা কমে ২,৩০,২০০ টাকায় নেমেছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের বক্তব্য, গত এক বছরে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ব বাজারের দোলাচল বেড়েছে। ফলে সুরক্ষিত লগ্নি গন্তব্য হিসেবে ধাতু দু’টির চাহিদা বেড়েছে লগ্নিকারীদের কাছে। দাম বৃদ্ধির সেটাই কারণ। জেজে গোল্ডের ডিরেক্টর হর্ষদ অজমেঢ়া বলেন, ‘‘বছরের শেষে অনেক লগ্নিকারী সংস্থাই মুনাফা তুলে হিসাবের খাতা শক্তিশালী করে দেখায়। সে কারণে এই সময় সোনা-রুপোর দাম একটু নীচের দিকে থাকে। কয়েক দিন পর এরা ফের লগ্নি করবে।’’ অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের ডিরেক্টর সমর দে এবং বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতির বৌবাজার শাখার সম্পাদক সুব্রত করের বক্তব্য, দাম একটু কমলেও বরাত বিশেষ বাড়েনি। ক্রেতারা দাম আর একটু কমার প্রত্যাশায় আছেন।