(বাঁ দিকে) কিরণ মজুমদার শ’ এবং ক্লেয়র মজুমদার (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
পরিবর্তনের ঘোষণা এ বার বায়োকনে। ভাগ্নি ক্লেয়র মজুমদারকে ওষুধ ও জৈবপ্রযুক্তি সংস্থাটির পরবর্তী চেয়ারপার্সন হিসেবে চিহ্নিত করলেন প্রতিষ্ঠাতা-কর্ণধার কিরণ মজুমদার শ’। তবে এখনই সরে দাঁড়াচ্ছেন না তিনি। বরং কয়েক বছর ধরে তাঁর অধীনে কাজ শিখবেন ৩৭ বছর বয়সি ক্লেয়র। ধাপে ধাপে পুরো দায়িত্ব নেবেন।
৭৩ বছর বয়সি শ’-এর সন্তান নেই। ফলে তাঁর উত্তরাধিকারী নিয়ে জল্পনা ছিলই। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সে দিক থেকে দেখতে গেলে কিরণের ভাই রবি মজুমদারের মেয়ে ক্লেয়র শুধু আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর স্নাতক নন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি এবং ক্যানসার বায়োলজি নিয়ে গবেষণার শিরোপাও।
উপরন্তু ২০১৮ সালে ক্যানসারের চিকিৎসার লক্ষ্যে বস্টনে বাইসেরা থেরাপিউটিক্স নামে সংস্থা খুলেছেন ক্লেয়র। ২০২৪-এ আমেরিকার স্টক এক্সচেঞ্জ ন্যাসড্যাকে তার নথিভুক্তিও হয়েছে। ফলে তাঁর পড়াশোনা ও সংস্থা চালানোর অভিজ্ঞতার অভাব নেই। তার উপরে বায়োকনের শাখা রিলে থেরাপিউটিক্স ও নুরা হেল্থের পর্ষদেও সদস্য তিনি। ফলে পরিবারের মধ্যে থেকে সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছেন কিরণ।
উল্লেখ্য, গুজরাতি পরিবারে জন্ম বায়োকন প্রতিষ্ঠাতার। ১৯৭৮ সালে মাত্র ১০,০০০ টাকা সম্বল করে বেঙ্গালুরুতে বাড়ির গ্যারাজে তৈরি করেন বায়োকন। পরবর্তী চার দশকে তাঁর অদম্য জেদের হাত ধরে বায়োকন হয়ে উঠেছে ভারতের বৃহত্তম বায়ো টেকনোলজি সংস্থা। ১৯৮৯-এ পদ্মশ্রী এবং ২০০৫ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। ১৯৯৮ সালে স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা জন শ’কে বিয়ে করেন কিরণ। যিনি ২০০১ সালে হন বায়োকনের ভাইস চেয়ারম্যান। ২০২২ সালে ক্যানসারে মারা যান জন।