—প্রতীকী চিত্র।
অপরিবর্তিত রইল গৃহস্থের হেঁশেলে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের (১৪.২ কেজি) দাম। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির সিদ্ধান্ত, এপ্রিলেও কলকাতায় বাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে লাগবে ৯৩৯ টাকা। দাম বাড়ানো হয়নি পেট্রল ও ডিজ়েলেরও। ফলে পেট্রল রইল লিটারে ১০৫.৪১, ডিজ়েল ৯২.০২ টাকায়। তবে হোটেল রেস্তরাঁ-সহ শিল্পে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের (১৯ কেজি) দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। এ মাসে কলকাতায় তা ২১৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ২২০৮ টাকা। ক্রেতাদের দাবি, সাম্প্রতিক কালে ২০০০ টাকা পেরোনো এই দাম নজিরবিহীন। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও অসমে ভোটের পরে এপ্রিলের শেষ বা মে মাসে সব তেল-গ্যাসের দামই বাড়ানো হতে পারে।
তবে আপাতত দাম বাড়ানো না হলেও গ্যাস নিয়ে গৃহস্থদের হয়রানি কমেনি বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। বহু গ্রাহকের অভিযোগ, কেন্দ্র বার বার দাবি করছে জোগানে সমস্যা না থাকার কথা। কিন্তু সিলিন্ডার পেতে গিয়ে নানা ভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। মঙ্গলবার তেল সংস্থাগুলিও ফের দাবি করে, পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়ার সমস্যা থাকলে, যথাযথ পদক্ষেপের বার্তাও দেওয়া হয়েছে। একাংশের মতে, এর থেকেই স্পষ্ট সমস্যা এখনও রয়েছে।
রাজ্যের এলপিজি ডিলার বা বিক্রেতাদের একাংশের দাবি, তেল সংস্থাগুলির বিভিন্ন গড়িমসির কারণেই গ্যাস নিয়ে গৃহস্থের সমস্যা মিটছে না। বুকিংয়ে সফটওয়্যারের সমস্যা থেকে যথেষ্ট সিলিন্ডার না পাওয়া— সব সঙ্কট একসঙ্গে হওয়ায় এই হাল। এ দিনও বহু গ্রাহকের অভিযোগ, সময়ে বুকিং হচ্ছে না বা বুকিং হওয়ার দিন সাতেক বাদে ডেলিভারি কোড আসছে। বহু ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ দিন বাদে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলেও ক্ষোভ একাংশের। শহর কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের নানা জায়গায় এখনও গ্রাহকেরা খালি সিলিন্ডার নিয়ে রান্নার গ্যাসের বিপণিতে চলে আসছেন। খালি সিলিন্ডারের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে বহু জায়গায়। গ্রাহকদের দাবি, বুকিং করেও দীর্ঘদিন ধরে সিলিন্ডার না পাওয়া যায়নি। ফলে দোকানে ভিড় করা ছাড়া উপায় নেই। তেল সংস্থাগুলির দাবি, এই ধরনের সমস্যা একটা ন্যূনতম অংশের হতে পারে। কিন্তু তাতে সংস্থাগুলির নয়, বরং ডিলারদের ভূমিকা দেখা হচ্ছে। আর তেল সংস্থা এবং ডিলারদের মধ্যের দড়ি টানাটানিতে ভুগছেন গ্রাহকেরা।
এলপিজি নিয়ে সমস্যা থাকলেও পেট্রল-ডিজ়েল নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে সে রকম সমস্যা নেই, দাবি তেল সংস্থাগুলির। ইন্ডিয়ান অয়েল ডিলার্স ফোরামের পক্ষে জন মুখোপাধ্যায় জানান, ইন্ডিয়ান অয়েল এখন ২-৩ দিনের বাকিতে তেল দিচ্ছে বলে বেশ কিছু ছোট পাম্পের হয়তো সমস্যা হচ্ছে। তবে তার সংখ্যা বেশি নয়।