US-Iran Ceasefire Impact

যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই সস্তা ‘কালো সোনা’, ১০০ ডলারের নীচে নামল অশোধিত তেলের দর, স্বস্তি ফিরল আমজনতার

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ থেকে ৬৫ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করত। সংঘাতের ফলে সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে পৌঁছে যায় ক্রুডের দর। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই দামে কোনও পতন দেখা যায়নি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৮

ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় স্বস্তি। পশ্চিম এশিয়ায় সাময়িক সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হতেই বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নীচে নেমে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলায় সাময়িক বিরতির ঘোষণা করতেই তেলের দরে পতন দেখা গিয়েছে। বুধবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (এমসিএক্স) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে ১০ হাজার ২৯ টাকায় নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে যাওয়ার পর তা ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্য দিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামে ছ’বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন লক্ষ করা গিয়েছে। ৯৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে ওই তেলের ব্যারেল। ব্রেন্ট ফিউচারস ব্যারেল প্রতি ১৪.৫১ ডলার বা ১৩.৩ শতাংশ কমে ৯৪.৭৬ ডলারে নেমে আসে। অন্য দিকে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ১৭.১৬ ডলার বা ১৫.২ শতাংশ কমে ৯৫.৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ থেকে ৬৫ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করত। সংঘাতের ফলে সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে পৌঁছে যায় ক্রুডের দর। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই দামে কোনও পতন দেখা যায়নি। মার্চে তেলের দামে রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছিল। ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইজ়রায়েলি সংঘাতের সময় দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।

পশ্চিম এশিয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে যুদ্ধ চলছিল, তার প্রভাব পড়ে সারা বিশ্বের জ্বালানি লেনদেনে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি তেল এবং গ্যাস বিভিন্ন দেশে পরিবাহিত হয়। সেই মূল জলপথই ইরান বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর সেই সমস্যার মেঘ এ বার কাটতে চলেছে বলে আশাবাদী বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সময় ট্রাম্প জোর দিয়ে জানান, হরমুজ় প্রণালী অবিলম্বে, সম্পূর্ণ এবং নিরাপদে খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান রাজি হয়েছে। পরে হরমুজ় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখায় ইরানও। আগামী দিনে অপরিশোধিত তেলের দামে হ্রাস বাজারকে আরও তেজি করে তুলবে বলে আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে জ্বালানির খরচ হ্রাস পাবে। মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি কমবে এবং সুদের হারের ওপর চাপ কমবে।

Advertisement
আরও পড়ুন