Repo Rate

মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির দিনে রেপো রেট ঘোষণা, জিনিসপত্রের দাম নিয়ে সতর্কবার্তা আরবিআইয়ের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির দিনে মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক শেষে রেপো রেট ঘোষণা করলেন রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র। পাশাপাশি, চলতি আর্থিক বছরের (২০২৬-’২৭) মুদ্রাস্ফীতি এবং জিডিপির সম্ভাব্য হার ঘোষণা করেছেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৩
Representative Picture

—প্রতীকী ছবি।

ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই আবহে অপরিবর্তিত থাকল ভারতের রেপো রেট। বুধবার, ৮ এপ্রিল মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের শেষে সে কথা ঘোষণা করেন রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র। ফলে আপাতত বাড়ছে বা কমছে না ভাসমান হারে বাড়ি-গাড়ির সুদের হার।

Advertisement

সোমবার, ৬ এপ্রিল নতুন আর্থিক বছরের (২০২৬-’২৭) প্রথম মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে বসে আরবিআই। বুধবার মলহোত্র জানিয়েছেন, সেখানে সর্বসম্মতিতে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে আপাতত সেটা ৫.২৫ শতাংশেই দাঁড়িয়ে থাকবে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে এই অঙ্কের কোনও পরিবর্তন করেনি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত অর্থবর্ষে (২০২৫-’২৬) মোট চার বার রেপো রেট বদল করে আরবিআই। ফলে সব মিলিয়ে এর সূচক ১২৫ বেসিস পয়েন্ট নিম্নমুখী হয়েছিল। যে সুদের হারে দেশের অন্যান্য ব্যাঙ্ককে আরবিআই ঋণ দিয়ে থাকে, অর্থনীতির পরিভাষায় তাকেই বলে রেপো রেট। এর সঙ্গে ভাসমান হারে গাড়ি-বাড়ির ঋণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রেপো রেট বাড়লে ওই ঋণের অঙ্ক বৃদ্ধি পায়, কমলে কমে।

রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকলেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন আরবিআই গভর্নর মলহোত্র। তাঁর দাবি, চলতি আর্থিক বছরের (২০২৬-’২৭) প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) এর হার দাঁড়াতে পারে চার শতাংশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, অর্থাৎ দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সেটা আরও বেড়ে ৪.৪ শতাংশ এবং ৫.২ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মলহোত্রের দাবি, মুদ্রাস্ফীতির হার সামান্য হলেও কমবে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে। আগামী বছরের (২০২৭ সাল) জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে সেটা ৪.৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আরবিআইয়ের পূর্বাভাস সত্যি হলে, খুচরো বাজারে দামের ছেঁকায় আমজনতার যে হাত পুড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

এ দিন মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধির আশঙ্কার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরবিআই গভর্নর বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। পাশাপাশি, বিকল্প উৎস থেকে তরল সোনা আমদানি করতে গিয়ে বাড়তি খরচ হচ্ছে, যা বর্তমান হিসাবের ঘাটতিকে প্রসারিত করতে পারে।’’ যদিও ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষবিরতি এই পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে বলেও আশাবাদী রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।

মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি এ দিন সম্ভাব্য মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) হার প্রকাশ করে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আরবিআই গভর্নর জানিয়েছেন, নতুন সিরিজ় কার্যকর হওয়ায় গত বছরের প্রকৃত (রিয়েল) জিডিপি বৃদ্ধি হার ৭.৬ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সেটা থাকতে পারে যথাক্রমে ৬.৮ শতাংশ, ৬.৭ শতাংশ, ৭ শতাংশ এবং ৭.২ শতাংশ।

Advertisement
আরও পড়ুন