Kolkata Real Estate 2026

দামে সস্তা হওয়ায় কলকাতায় আবাসন কেনার হুড়োহুড়ি, ইরান যুদ্ধের মধ্যে কতয় বিকোচ্ছে ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গমিটার?

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান যুদ্ধের মধ্যেও স্থিতিশীল রয়েছে কলকাতার আবাসনের বাজার। শুধু তা-ই নয়, দামের দিক থেকে এই শহরের বাড়ি বা ফ্ল্যাটকে সস্তা বলা যেতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৪
Representative Picture

—প্রতীকী ছবি।

ইরান যুদ্ধের জেরে অস্থির শেয়ারবাজার। সোনা-রুপোর অবস্থাও তথৈবচ। লড়াই এখনই না থামলে দেশ জুড়ে তীব্র হতে পারে জ্বালানি সঙ্কট। এ-হেন জটিল পরিস্থিতিতে একমাত্রা চাঙ্গা কলকাতার আবাসন শিল্প। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সেখানে কোনও রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। রিয়েল এস্টেটের সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নতুন আর্থিক বছরে (পড়ুন ২০২৬-’২৭) এতে লগ্নি বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement

ভারতের আবাসন শিল্পের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেট রেসিডেন্সিয়াল অ্যান্ড অফিস মার্কেট’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নজরদার সংস্থা নাইট ফ্রাঙ্ক। তাঁদের দাবি, গত বছর (পড়ুন ২০২৫ সাল) কলকাতায় বাড়ি, ফ্ল্যাট বা অফিসঘরের চাহিদা ছিল স্থিতিশীল। যদিও বার্ষিক হিসাবে বৃদ্ধির সূচক কিছুটা মন্থর হয়েছে। তবে সেটা লগ্নিকারীদের একেবারেই হতাশ করেনি।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নাইট ফ্রাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, আবাসনের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে দেশের অন্যতম সস্তা বাজার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে কলকাতা। উল্লেখ্য, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বিক্রি বৃদ্ধি পায় প্রায় সাত শতাংশ। সব মিলিয়ে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮,৮০৬টি ইউনিট। ক্রেতাদের ইতিবাচক মনোভাব, গৃহঋণে সুদের হার কম থাকা এবং দামের দিক থেকে অন্য এলাকার তুলনায় সাশ্রয়ী হওয়ায় এই ধারা বজায় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছর কলকাতা এবং তার আশপাশের এলাকা মিলিয়ে বাড়ি-ফ্ল্যাট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৮৯৬ ইউনিট। সেটা ২০২৪ সালের তুলনায় তিন শতাংশ কম। নাইট ফ্রাঙ্ক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে শহরে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের ব্যাপারে আগ্রহে ভাটা পড়ে। কিন্তু, দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সম্পূর্ণ পাল্টে যায় সেই ছবি। গত বছরের এপ্রিলের পর রিয়েল এস্টেটে লগ্নির হিড়িক লক্ষ করা গিয়েছে।

কলকাতায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে একটা সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল দালালরাজ। এর জেরে প্রতারিত হওয়ার ভয়ে লগ্নিকারীদের একাংশ আবাসন কিনতে আগ্রহ দেখাতেন না। সূত্রের খবর, বর্তমানে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে তিলোত্তমা। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় রিয়েল এস্টেটের নতুন প্রকল্প শুরু করার সূচকে আসে বড় বদল। বার্ষিক ভিত্তিতে সেটা ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। যদিও সারা বছরের হিসাবে ছ’শতাংশ কমেছে কলকাতায় নতুন আবাসন প্রকল্পের পরিমাণ।

অন্য দিকে বার্ষিক ভিত্তিতে অবিক্রিত বাড়ি-ফ্ল্যাটের অঙ্ক হ্রাস পেয়েছে প্রায় পাঁচ শতাংশ। ২০২৫ সালের শেষে সেটা কমে নেমে আসে ১৯ হাজার ৬৩০ ইউনিটে, যেটা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিন্ম। তা ছাড়া গত এক বছরে কলকাতায় আবাসনের দাম বেড়েছে ছয় শতাংশ। ফলে প্রতি বর্গমিটারের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫৪ টাকা। এই পরিস্থিতি ২০২৬ সালে বজায় থাকে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement
আরও পড়ুন