হনুমান মন্দিরে কান্না তরুণের। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
উত্তরপ্রদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিপিএসসি)-এর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। মন্দিরে ঢুকে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। হনুমানের মূর্তির সামনে শুয়ে কেঁদেই ফেললেন তরুণ। হৃদয়স্পর্শী তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সমাজমাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াগরাজের বাসিন্দা ওই তরুণের নাম আনন্দ রাজ সিংহ। রবিবার ইউপিপিএসসির ২০২৪ সালের নিয়োগ পরীক্ষার ফলপ্রকাশ হয়েছে। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকায় নাম রয়েছে আনন্দেরও। আর সেই খবর পেয়েই হনুমানমন্দিরে প্রণাম করতে গিয়েছিলেন তরুণ। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। হনুমানের মূর্তির সামনে মাথা নত করে শুয়ে উচ্চস্বরে কাঁদতে শুরু করেন আনন্দ। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনন্দ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা আত্মানন্দ সিংহ ঝুনসিতে একটি ট্রাক্টর সংস্থায় কর্মরত। বিগত চার বছর ধরে সরকারি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আনন্দ। অবশেষে বছরের পর বছরের কঠোর পরিশ্রম, সংগ্রাম এবং অধ্যবসায়ের ফল পেয়েছেন তিনি। ইউপিপিএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে সোনভদ্র জেলার ঘোড়াওয়ালে নিয়োগ হয়েছে আনন্দের। উঁচু পদে নিয়োগ হয়েছে তাঁর। তবে সাফল্যের জন্য বাবা-মায়ের আশীর্বাদ, পরিবারের সমর্থন এবং নিরন্তর কঠোর পরিশ্রমকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি। আনন্দ জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। আর সে সব কথা মনে করেই মন্দিরে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।
হনুমানমন্দিরে ঢুকে আনন্দের কাঁদার ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘জেনজ়ডায়জেস্ট’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর আনন্দের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকেরা। নেটাগরিকদের অনেকে আবার নিজেদের সরকারি চাকরি পাওয়ার যাত্রার কথা শুনিয়েছেন সমাজমাধ্যমে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘আনন্দ তুমি জীবনে অনেক উন্নতি করো। তোমাকে দেখে নিজের কম বয়সের কথা মনে পড়ে গেল।’’