সঙ্কটের মধ্যে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার রাখতে ব্যস্ত এক কর্মী। ছবি: পিটিআই।
বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আজ, বুধবার কেরলে একদিনের ধর্মঘট ডেকেছে সেখানকার হোটেল-রেস্তরাঁগুলির সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য ধর্মঘটের ভাবনা নেই। তবে এখানকার হোটেল-রেস্তরাঁগুলিতে খাবার দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। আগামী দিনে তা বাড়তে পারে ১০% পর্যন্ত।
কেরলে ধর্মঘটী ইউনিয়নের নেতা জি জয়াপালের দাবি, ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩০০০ টাকা পেরিয়ে গিয়েছে। খরচ বইতে না পেরে অনেককেই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হতে পারে। বহু মানুষ রুজি-রোজগার হারাবেন। গোটা দেশের আতিথেয়তা শিল্প ক্ষোভে ফুঁসছে। ৬ মে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে কেরলে। তেল সংস্থাগুলির আঞ্চলিক দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদশর্নও চলবে। এতে কাজ না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
কলকাতায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৯৯৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩২০২ টাকা। তবে পশ্চিমবঙ্গে হোটেল-রেস্তরাঁর সংগঠনগুলি এখনই ধর্মঘটের পথে হাঁটতে নারাজ। পূর্বাঞ্চলের সংগঠন এআইআরএইআই-এর সভাপতি সুদেশ পোদ্দার বলেন, ‘‘আমরা ২-৩ দিনের মধ্যে নিজেরা আলোচনায় বসব। মোটামুটি সব খাবারের দাম ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেব। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তার বেশি বাড়ানো হবে না।’’ সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, খাবারের দোকানের খরচ বৃদ্ধি মানে তার চাপ সাধারণ ক্রেতার ঘাড়েই ঠেলে দেওয়া। আর তা যদি ১০% পর্যন্ত হয়, তা হলে খরচ বাড়বে অনেকখানি। সংগঠনের অবশ্য দাবি, সেই পরিস্থিতি এড়াতে ইতিমধ্যেই সিলিন্ডারের দাম কমানোর আর্জি নিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছে তারা। তবে খবর, কলকাতার একাধিক রেস্তরাঁ ইতিমধ্যেই খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকে রাজ্যে নতুন সরকার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। তাদের কাছে সুরাহার আর্জি জানানোর পরে প্রয়োজনীয়
সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই অবস্থায় রান্নার গ্যাস বিক্রেতাদের একাংশ মনে করছেন, চলতি মাসেই ফের বাড়তে পারে গৃহস্থের গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। যদিও কবে, সেটা স্পষ্ট নয়। এর আগে মার্চে তা ৬০ টাকা বেড়েছিল। জল্পনা রয়েছে, দাম বাড়তে পারে পেট্রল-ডিজ়েলেরও। তবে মঙ্গলবার আবার কেন্দ্র জানিয়েছে, তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই। তেলের দাম বৃদ্ধির কোনও প্রস্তাবও জমা পড়েনি। ফলে জল্পনা ভুল। খবর ছড়িয়েছিল কেন্দ্র তেল সংস্থাগুলিকে বিপুল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে পারে। এ দিন পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মার বার্তা, সংস্থাগুলি বিরাট লোকসানের মুখে পড়ছে ঠিকই। তবে তাদের সাহায্য দেওয়ার কথা এখনও ভাবা হয়নি। উল্লেখ্য, মন্ত্রক সূত্রে গত সপ্তাহে জানা গিয়েছিল, সংস্থাগুলির পেট্রলের লিটারে ২০ টাকা এবং ডিজ়েলে ১০০ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে, কতদিন এই বোঝা
বহন করা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞ সংস্থা ফিচের বক্তব্য, খুব বেশি দিন সম্ভব নয়। এখনও বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল চড়া। ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল ১১১ ডলারে রয়েছে। আরও কিছু দিন দাম এতটা বেশি থাকলে দেশের তেল সংস্থাগুলির আর্থিক স্বাস্থ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে। বাড়াতে হতে পারে জ্বালানির দামও।