World’s First Trillionaire Elon Musk

স্পেসএক্সের পিঠে চড়ে বিশ্বের প্রথম লক্ষ কোটিপতি মাস্ক, পকেটের ডলার সাজালে চাঁদের দূরত্ব মাপা যাবে ২০০ বার!

মার্কিন শেয়ারবাজারে স্পেসএক্স পা রাখতেই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের মুকুটে জুড়ল নতুন পালক। বিশ্বের প্রথম লক্ষ কোটিপতি ডলার সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ১৪:১৫
Representative Picture

—প্রতীকী চিত্র।

ধনকুবের মার্কিন শিল্পপতি ইলন মাস্কের মুকুটে নয়া পালক। বিশ্বের প্রথম লক্ষ কোটিপতি (পড়ুন ট্রিলিয়নেয়ার) হলেন তিনি। শুক্রবার, ১২ জুন আমেরিকার শেয়ারবাজারে রেকর্ডমূল্যে তালিকাভুক্ত হয় তাঁর মহাকাশভিত্তিক সংস্থা স্পেসএক্স। এর জেরে দুনিয়ার প্রথম ব্যক্তি হিসাবে ওই খেতাব অর্জন করেছেন মাস্ক।

Advertisement

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের তালিকাভুক্তিতে ইলনের সম্পত্তির বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.১১ লক্ষ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় সেটা প্রায় ১০৫.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা। বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকায় মাস্কের পরেই রয়েছেন মার্কিন টেক জায়ান্ট গুগ্‌লের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজ়নের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ফরাসি বিলাসবহুল পণ্য সংস্থা এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্ট।

স্পেসএক্সের তালিকাভুক্তিতে মাস্ক এদের অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছেন বললে অত্যুক্তি হবে না। যদিও গত শতাব্দীর ৯০-এর দশকের গোড়ায় তাঁর নাম যে ধনকুবেরদের তালিকার শীর্ষে ছিল, এমনটা নয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের ৩৫ নম্বর ধনী ব্যক্তি ছিলেন ইলন। তখন তাঁর সম্পত্তির বাজারমূল্য ২,৮০০ কোটি ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল।

কিন্তু, এর পরই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করতে থাকে মাস্কের দু’টি প্রধান সংস্থা। সেগুলি হল, বৈদ্যুতিন গাড়ি টেসলা এবং মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) কোম্পানি স্পেসএক্স। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ শেয়ার রয়েছে ইলনের কাছে।

মার্কিন সংবাদসংস্থা ফোর্বস জানিয়েছে, তালিকাভুক্তির সময় স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ওঠে ১৫০ ডলার। সঙ্গে সঙ্গেই দু’লক্ষ কোটি ডলারের বাজারমূল্য ছুঁয়ে ফেলে মাস্কের মহাকাশভিত্তিক সংস্থা। শুক্রবার, ১২ জুন এর স্টক কিনতে লগ্নিকারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। বাজার বন্ধ হলে দেখা যায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এর শেয়ারের লেনদেন।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তালিকাভুক্তির পরেও ক্রমাগত উপরের দিকে উঠতে থাকে স্পেসএক্সের স্টকের দর। দিনের শেষে সেটা ১৬৮ ডলারে গিয়ে পৌঁছোয়। ফলে মাস্কের সংস্থার বাজার মূলধন দাঁড়ায় ২.১ লক্ষ কোটি ডলার। ফলে টেসলাকে পিছনে ফেলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ বৃহত্তম পাবলিক ট্রেডেড সংস্থায় পরিণত হয়েছে স্পেসএক্স।

ফোর্বসের দাবি, এই দুই সংস্থার সম্মিলিত মালিকানার ভিত্তিতে বিশ্বের প্রথম লক্ষ কোটি ডলারের সম্পত্তির অধিকারী হয়েছেন মাস্ক, যেটা বেশ কয়েকটি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) চেয়ে অনেক বেশি।

মজার বিষয় হল, এক লক্ষ কোটি ডলার মোট পর পর সাজালে তার দূরত্ব দাঁড়াবে ৯.৭০ কোটি মাইল বা ১৫.৬০ কোটি কিলোমিটার, যেটা পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে ২০০ বারের বেশি আসা-যাওয়ার সময়। বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা আনুমানিক ৮২০ কোটি। ওই অর্থ সবার মধ্যে ভাগ করে দিলে অঙ্কের হিসাবে প্রত্যেকে পাবেন ১২২ ডলার।

শুধু তা-ই নয়, লক্ষ কোটিপতির ক্লাবে ঢুকে যাওয়া মাস্কের সম্পত্তির পরিমাণ এখন তাঁর জন্মভূমি দক্ষিণ (সাউথ) আফ্রিকার বার্ষিক জিডিপির প্রায় দ্বিগুণ। ওই টাকায় ৪ লাখ ৩ হাজার ২০০ ডলারের ২৫ লক্ষ বাড়ি কিনতে পারবেন ইলন।

Advertisement
আরও পড়ুন