অন্তঃসত্ত্বারা ত্বকের যত্ন নেবেন কী ভাবে? ছবি:সংগৃহীত।
বাড়িতে নতুন অতিথি আসার খবরে উচ্ছ্বসিত রাজন্যারই মনখারাপ থাকছে ইদানীং। এমনিতে সুন্দরী। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ততই মুখে ব্রণের দেখা মিলছে। ত্বকের জেল্লা কমছে। বয়ঃসন্ধিতেও যার কখনও ব্রণ হয়নি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সেই সমস্যা?
শুধু রাজন্যা নন, নতুন অতিথি শরীরে বেড়ে ওঠার সময়ে ত্বকে নানা রকম সমস্যা হয়। মুম্বই নিবাসী ত্বকের রোগের চিকিৎসক সোনাল খাড়ে আহুজা এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, এই সময় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের আত্মীয়েরা তাঁদের মুখ দেখে সুন্দর বললেও, আদতে তা হয় না। উল্টে অনেকেই ব্রণের সমস্যা, মুখ কালো ছোপ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন।
শরীরে নতুন প্রাণ বেড়ে ওঠার সময়ে মহিলাদের শরীরে হরমোনের অনেকটাই হেরফের হয়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ইস্ট্রোজেন এবং মেলানোসাইট স্টিমুলেটিং হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। সে কারণেই পিগমেন্টশন বা মুখে কালচে ছোপ পড়ে খুব দ্রুত। ফলে, এই সময় কেউ যদি সানস্ক্রিন না মেখে মিনিট পাঁচেকও রোদে থাকেন, তাঁর মুখে কালচে ছোপ পড়ার সম্ভাবনা বাড়বে। একই সঙ্গে এই সময়ে কারও মুখে বয়ঃসন্ধির মতোই ব্রণ দেখা যায়।
ত্বকের এই রকম নানা সমস্যা যে কোনও অন্তঃসত্ত্বা মহিলার কাছেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এই সময় ইচ্ছা মতো প্রসাধনী ব্যবহার করা যায় না। চিকিৎসকের কথায়, এই সময় রেটিনলের মতো সিরাম না মাখাই ভাল। বার্ধক্যের গতি থমকে দিতে সাহায্য করে রেটিনল। তবে রেটিনল বা ত্বকের জন্য উচ্চ মাত্রার কেমিক্যাল পিল এই সময় ব্যবহার করা চলে না। বদলে মাখা যেতে পারে উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে প্রাপ্ত 'বাকুচিয়োল'। ব্রণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে অ্যাঝেলিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে এবং কালো দাগ-ছোপ তুলে দেয়।
এই সময়ে এটা-সেটা না মেখে ৯ মাস জল দিয়েই মুখ ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ত্বকের রোগের চিকিৎসক। দৈনন্দিন ত্বকের যত্নে মাখা যেতে পারে ভিটামিন সি। বলিরেখা কমাতে, জেল্লা ধরে রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন সি। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বক প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে।
আরও একটি বিষয় অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও জরুরি তা হল সানস্ক্রিন। তবে চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, খনিজ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন জ়িঙ্ক অক্সাইড বা টাইটেনিয়াম ডাই-অক্সাইড জাতীয় সানস্ক্রিনই ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মির থেকে সুরক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভাল। কারণ, এই ধরনের সানস্ক্রিন ত্বকের উপরে বর্ম তৈরি করে, ত্বকে সেই ভাবে শোষিত হয় না।
স্ট্রেচমার্কও অন্তঃসত্ত্বাদের কাছে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে। তবে কোনও মলমই ১০০ শতাংশ স্ট্রেচমার্ক দূর করতে পারে না, মনে করাচ্ছেন চিকিৎসক। কারণ, নেপথ্যে জিনগত বিষয়ও জড়িত। তবে এই সময় পেট চুলকালে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে মৃদু ফেসওয়াশ বা ক্লিনজ়ার এবং ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজ়ারও এই সময় মাখা চলে।