— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
পিএম শ্রী প্রকল্প নিয়ে কলকাতার কপালে চিন্তার ভাঁজ। রাজ্যে পালা বদলের পরই পিএমশ্রী স্কুল (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজ়িং ইন্ডিয়া) প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে রাজ্যে। প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ১২,৩১০টি স্কুল এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার উপযুক্ত বলে তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। কিন্তু কলকাতার কী হবে?
হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি ব্লক থেকে দু’টি করে স্কুলকে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে। সে ক্ষেত্রেই সমস্যায় কলকাতার স্কুলগুলি। জেলার তুলনায় কলকাতা কি সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে? চলছে আলোচনা।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০২২-২৩ সাল থেকেই কেন্দ্রের তরফে চালু হয় পিএমশ্রী। ২০২৭-এর মধ্যে গোটা রাজ্যে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে ১৪ হাজারের বেশি স্কুলকে এই পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি স্কুলকে বেছে নিয়ে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করানো হবে, এমনই লক্ষ্য। সে ক্ষেত্রে সেই স্কুলের সার্বিক বিকাশ করা হবে। এমনকি আশপাশের স্কুল পড়ুয়াদেরও সার্বিক বিকাশে সাহায্য করবে ওই সব স্কুল। উন্নয়নের খাতে ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার। ওই স্কুলগুলিকে আদর্শ হিসেবে তৈরি করার জন্যে মোট অর্থের ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ৪০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার।
এখানেই সমস্যা পড়েছে রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহর। জেলা স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, কলকাতা শহরে কোনও ব্লক নেই। এ ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডকে একটি ব্লক ধরা হয়। তা হলে পিএমশ্রী-র নিয়ম অনুযায়ী গোটা শহর থেকে মাত্র দু’টি স্কুল এই আওতায় পড়বে।
এ শহরে ৫০০-র বেশি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুল রয়েছে। সাধারণ প্রাথমিক ও পুরসভার প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা প্রায় ১৩০০। অর্থাৎ প্রায় ১৮০০ স্কুলের ক্ষেত্রে মাত্র দু’টি স্কুল পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতায় পড়বে। ইতিমধ্যেই জেলাস্কুল শিক্ষা বিভাগে প্রধানশিক্ষকেরা এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। সেই সূত্রে বিকাশ ভবনেও এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
এ বিকল্প হিসেবে জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফ থেকে আবেদন করা হয়েছে, কলকাতা পুর-এলাকায় মোট ১৬টি বোরো রয়েছে। যদি একটি বোরোকে একটি ব্লক হিসেবে ধরা হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে মোট ৩২টি স্কুল পাবে কলকাতা। সমগ্র শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনও স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি।
কেন্দ্রের পিএম শ্রী প্রকল্পে মডেল স্কুলগুলির নামের আগে ‘পিএম’ বা প্রধানমন্ত্রী শব্দটি যোগ করতে হবে। এ নিয়েই আপত্তি তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় তৃণমূল সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, রাজ্য সরকার যে হেতু ৪০ শতাংশ অর্থের দায় বহন করবে, সে হেতু ওই প্রকল্পে শুধু প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। শিক্ষা সংবিধানের যৌথ তালিকাভুক্ত। সে সময় এই প্রকল্প গ্রহণ করেনি তৃণমূল সরকার।
রাজ্যে ক্ষমতার আসার পর বিজেপি সরকার পিএম শ্রী প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে স্কুলগুলিতে পরিদর্শনও শুরু হয়েছে। দফতর থেকে যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে সেগুলিকে পরিদর্শন করে ব্লক ভিত্তিক পরিদর্শন করে ওই স্কুলগুলির মধ্যে থেকে প্রতিটি ব্লকের অন্তত পাঁচ থেকে ছ’টি স্কুলের তালিকা প্রস্তুত হবে। ওই তালিকা পাঠানো হবে বিকাশ ভবনের স্কুলশিক্ষা দফতরে। সেখানে ফের যাচাই করে প্রতিটি ব্লকভিত্তিক অন্তত তিনটি নাম পাঠানো হবে দিল্লিতে। তার পরে দিল্লির কেন্দ্রীয় স্কুলশিক্ষা মন্ত্রক থেকে প্রতিটি ব্লকের দু’টি স্কুলকে পিএমশ্রী মডেল স্কুলের জন্য বেছে নেওয়া হবে। সবশেষে সেই সব স্কুলকে সার্বিক ভাবে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হবে এবং স্কুলের নামের আগে যুক্ত হবে ‘পিএমশ্রী’।