PM SHRI school

কেন্দ্রের ‘পিএমশ্রী’ এ বার রাজ্যেও! প্রতিটি ব্লকে মডেল স্কুল বেছে হবে সার্বিক উন্নয়ন

২০২২-২৩ সাল থেকেই কেন্দ্রের তরফে চালু করে হয় পিএমশ্রী (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজ়িং ইন্ডিয়া)। ২০২৭-এর মধ্যে গোটা রাজ্যে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে ১৪ হাজারের বেশি স্কুলকে এই পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি স্কুলকে বেছে নিয়ে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করানো হবে, এমনই লক্ষ্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৩:০৫

— প্রতীকী চিত্র।

তিন বছরের বেশি সময় চলছিল টালবাহানা। অবশেষে এ রাজ্যে শুরু হতে চলেছে পিএমশ্রী মডেল স্কুল।

Advertisement

রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রকল্প চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। গত শুক্রবার ১৫ মে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্কুল শিক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা দফতরের এক মউ স্বাক্ষরিত হয়। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, সেখানেই জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু করার ক্ষেত্রে দু’পক্ষই সহমত হয়েছেন। ওই কর্তা জানান, দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০২২-২৩ সাল থেকেই কেন্দ্রের তরফে চালু করে হয় পিএমশ্রী (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজ়িং ইন্ডিয়া)। ২০২৭-এর মধ্যে গোটা রাজ্যে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে ১৪ হাজারের বেশি স্কুলকে এই পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি স্কুলকে বেছে নিয়ে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করানো হবে, এমনই লক্ষ্য। সে ক্ষেত্রে সেই স্কুলের সার্বিক বিকাশ করা হবে। পরিকাঠামো থেকে শিক্ষার পদ্ধতি সর্বত্রই মডেল হিসেবে পরিচিত হবে স্কুলগুলি। আশপাশের স্কুল পড়ুয়াদেরও সার্বিক বিকাশে সাহায্য করবে ওই সব স্কুল। উন্নয়নের খাতে ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার। স্কুলগুলিকে মডেল হিসেবে তৈরি করার জন্যে মোট টাকার ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ৪০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার।

গ্রাফিক : আনন্দবাজার ডট কম ।

গ্রাফিক : আনন্দবাজার ডট কম ।

কিন্তু শর্ত ওই মডেল স্কুলের নামের আগে যুক্ত করতে হবে পিএমশ্রী। আর এখানেই আপত্তি তোলেন পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দফতর সূত্রের খবর, সে সময় রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল এই প্রকল্পে রাজ্যও অংশীদার। শিক্ষা সংবিধানের যৌথ তালিকাভুক্ত। তাই স্কুলের নামের আগে ‘পিএম’ যুক্ত হওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে সহমত হয়নি তৎকালীন রাজ্য সরকার।

কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরই বোঝা যাচ্ছিল, এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। শুক্রবার দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। সেখানেই এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের নাম যুক্ত হয়।

দফতরের এক কর্তা জানান, প্রাথমিক ভাবে রাজ্যের প্রতিটি জেলার প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে স্কুল বেছে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এর পর সেই স্কুলগুলিকে পিএমশ্রী মডেল স্কুল হিসেবে তৈরি করা হবে। সে ক্ষেত্রে স্কুলের সার্বিক উন্নয়ন অর্থাৎ পরিকাঠামো ও শিক্ষাদানের পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন হবে। ইতিমধ্যে রাজ্যের বেশ কিছু কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং জওহর নবোদয় বিদ্যালয়কে এই মডেল স্কুল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এ বার সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিকেও মডেল হিসেবে তৈরি করার কাজ শুরু করবে রাজ্য সরকার।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘কেরলের পূর্বতন বাম সরকার এই প্রকল্প মেনে নিলেও আমাদের রাজ্যের তৃণমূল সরকার তা মেনে নেননি। এটা খুবই দুর্ভাগ্যের। দ্রুত এই প্রকল্প চালু হোক ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন