লাউ না ঝিঙে, কোনটি খাবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
মে মাসের তাপপ্রবাহে এক টুকরো স্বস্তি এনে দিতে পারে জলে ভরা গ্রীষ্মের সব্জিগুলি। গরম পড়লেই হালকা, ঠান্ডা ও সহজপাচ্য খাবার খুঁজতে শুরু করে শরীর। আর তখন রান্নাঘরে জাঁকিয়ে বসে লাউ আর ঝিঙের মতো সব্জি। এই ধরনের সব্জি দেখলে অনেকেই নাক সিঁটকান বটে, কিন্তু লাউ ও ঝিঙের গুণের কাছে মাথা নত করতেই হয়। জলে পরিপূর্ণ, কম ক্যালোরিযুক্ত আর পেটের জন্য আরামদায়ক— গ্রীষ্মের জন্য এগুলি কার্যত আদর্শ। কিন্তু প্রশ্ন হল, পুষ্টিগুণের বিচারে কে এগিয়ে? লাউ না ঝিঙে?
দু’টি সব্জিই শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমের জন্য ভাল। তবে দু’টির পুষ্টিগুণের তুল্যমূল্য বিচার করলে দেখা যাবে, উপকারিতার তালিকা খানিক ভিন্ন।
লাউয়ের পুষ্টিগুণ। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
লাউয়ের পুষ্টি উপাদান
১০০ গ্রাম লাউয়ে প্রায় ১২-১৫ ক্যালোরি পাওয়া যায়। জল থাকে প্রায় ৯৫ শতাংশ। কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ৩.৩৯ গ্রাম। লাউয়ে রয়েছে ১.২ গ্রাম ফাইবার, ০.২ গ্রাম প্রোটিন, ০.১ গ্রাম ফ্যাট, ০.৫ গ্রাম ফাইবার, ১০.১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ২৬ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম, ০.২ মিলিগ্রাম আয়রন এবং থায়ামিন, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন ও ভিটামিন বি ৬।
লাউয়ের স্বাস্থ্যগুণ
লাউয়ে জলের পরিমাণ প্রভূত বলে এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, জলের পরিমাণ বেশি বলে হজমক্ষমতাও উন্নত হয় লাউ খেলে। লাউ খেলে পেট ভার হয় না। কম ক্যালোরির কারণে ওজন হ্রাসের জন্য লাউ খুব উপকারী। বার বার অথবা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় লাউ। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল। লাউয়ে থাকা পটাশিয়াম ও সোডিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, ফলে হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
ঝিঙের পুষ্টিগুণ। ছবি: সংগৃহীত
ঝিঙের পুষ্টি উপাদান
ঝিঙেতে তুলনায় বেশি পরিমাণে ফাইবার (২.৫ গ্রাম), ভিটামিন এ, ভিটামিন সি (১৫-২০ মিলিগ্রাম) এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। তবে ঝিঙেতে ক্যালোরির পরিমাণ খানিক বেশি, প্রায় ১৮-২০। তা ছাড়া জলের পরিমাণ প্রায় ৯৩-৯৫ শতাংশ, ৩.৫-৪.৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২০-৩০ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম, ০.৬-১.২ গ্রাম প্রোটিন, ০.১ গ্রাম ফ্যাট, ০.৩-০.৫ মিলিগ্রাম আয়রন।
ঝিঙের স্বাস্থ্যগুণ
ঝিঙেতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি বলে হজমের ক্ষমতা উন্নত করতে পারে। ওজন হ্রাসের জন্যও পাতে ঝিঙে রাখা উচিত। একই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে ঝিঙে। শরীরের জলের পরিমাণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উপকারী গ্রীষ্মের এই সব্জি। তা ছাড়া, এতে ভিটামিনের উপস্থিতির কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়।
তুল্যমূল্য বিচার করলে কে জিতবে?
শরীর ঠান্ডা রাখা আর হজমের জন্য লাউয়ের গুরুত্ব বেশি হলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পুষ্টির দিক থেকে ঝিঙে কিছুটা এগিয়ে। দু’টিই ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। প্রবল তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে অথবা পেটফাঁপার সমস্যা কমাতে লাউয়ের জুড়ি মেলা ভার। লাউ খেলে শরীর তৎক্ষণাৎ শীতল হয় ও স্বস্তি পায়। কিন্তু ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের প্রয়োজনে ঝিঙেই বেশি কার্যকরী।
সমাজমাধ্যমেও এখন লাউ-ঝিঙের ভাবমূর্তি বদলাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, সমস্যা সব্জিতে নয়, সমস্যা রান্নার ধরনে। সঠিক মশলা আর রন্ধন প্রণালী অনুসরণ করলে এই সাধারণ সব্জিও হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত সুস্বাদু।