বাজেটে চোখ সংস্কারেই, গুরুত্ব পণ্যের মানে
Budget 2026

গুরুত্ব পণ্যের মান উন্নয়নে, বিনিয়োগ টানতে জোগানে জোর, বাজেটে চোখ সংস্কার

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের রবিবাসরীয় বাজেটের রূপরেখা এমনই হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত সরকারি শিবিরের। অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মোদী সরকার কর্পোরেট করের বোঝা কমিয়েছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী
শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:১২

বিশ্ব বাজারে রফতানি বাড়াতে দেশে তৈরি পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর জন্য উন্নয়ন ও গবেষণায় জোর। ছোট-মাঝারি শিল্প, বিশেষত আমেরিকার শুল্কের ফলে ধাক্কা খাওয়া রফতানি সংস্থাকে সুরাহা। আমদানি শুল্কের বোঝা কমানো ও গোটা ব্যবস্থার সরলীকরণ। লগ্নি টানতে ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ করা। সর্বোপরি কর্মসংস্থান তৈরি করতে আর্থিক বৃদ্ধির হারকেও অন্তত ৭ শতাংশের আশেপাশে ধরে রাখা।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের রবিবাসরীয় বাজেটের রূপরেখা এমনই হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত সরকারি শিবিরের। অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মোদী সরকার কর্পোরেট করের বোঝা কমিয়েছে। গত বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য কমেছে আয়কর। যাতে বাজারে কেনাকাটা বাড়ে। একই লক্ষ্যে দুর্গাপুজোর আগে ছাঁটা হয়েছে জিএসটি। চাহিদা বাড়াতে এত সব করার পরে এ বার জোগানে নজর দেওয়া দরকার। যাতে বেসরকারি লগ্নি আসে। কর্মসংস্থান তৈরি হয়। মানুষের রোজগার বাড়ে। একমাত্র তখনই বাজারে কেনাকাটা বৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হবে। এ জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারও।

অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, জিএসটির পরে এ বার অর্থমন্ত্রী আমদানি শুল্ক সরলীকরণে নজর দেবেন। গত দু’বছরে এই শুল্কের বোঝা ধাপে ধাপে কমানো হয়েছে। গত নভেম্বরে কমেছে নিয়মের জটিলতা। ৩১টি শুল্ক সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি একজোট করে একটি নিয়মে আনা হয়েছে। এই দফায় সেগুলির বিভিন্ন রকম হারের সমস্যা কমাতে আমদানি শুল্ক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন অর্থমন্ত্রী। যাতে শিল্পের পক্ষে তা মেটানো সহজ হয়। দু’দফায় ১৪ রকম শুল্কের হার তুলে দেওয়ার পরেও রয়ে গিয়েছে আট রকম হার। বাজেটে তা আরও কমবে।

উপদেষ্টা ডেলয়েট ইন্ডিয়া-র মতে, ইস্পাত শিল্প থেকে ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্রে কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্কে ছাড় প্রয়োজন। সংস্থার অর্থনীতিবিদ রুমকি মজুমদার বলেন, ‘‘আর্থিক সমীক্ষা আগামী বছর ৬.৮% থেকে ৭.২% আর্থিক বৃদ্ধির কথা বলেছে। যার অর্থ বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও অর্থনীতি যথেষ্ট জোরে ছুটবে। সরকার আয়কর, জিএসটি কমিয়েছে। সুদ কমিয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। আশা, কেন্দ্র এ বার বাজারে জোগানের সংস্কার করবে। যাতে বেসরকারি লগ্নি বাড়ে। আর্থিক বৃদ্ধির হার চড়ায় বাঁধা থাকে।’’

বাজেট অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, তাঁর সরকার এখন সংস্কার এক্সপ্রেসে সওয়ার। বাজেট অধিবেশনেও নতুন সংস্কারের দেখা মিলবে। ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা নিয়ে রফতানি বাড়াতে দেশে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। যে কারণে বাজেটে গবেষণা ও মানোন্নয়ন জোর পেতে পারে, মত বিশেষজ্ঞদের।

অর্থনীতিবিদদের দাবি, সরকার বাজারে চাহিদা বাড়াতে চাইলেও বেসরকারি লগ্নির দেখা তেমন মিলছে না। তার অভাব পূরণে কেন্দ্রকে পরিকাঠামোয় বিপুল লগ্নি করতে হচ্ছে। অথচ এ দেশের শিল্পপতিরা বিদেশে পুঁজি ঢালছেন। যার অর্থ, দেশের বাজারে অনিশ্চয়তা। কারখানাগুলির উৎপাদন ক্ষমতার ৭৫% ব্যবহার হচ্ছে। আয়কর ও জিএসটিতে ছাড়ের পরে গ্রামে কেনাকাটা বাড়লেও শহরে ছবিটা উজ্জ্বল নয়। কর্মসংস্থান বাড়লে বিক্রি বাড়বে। বণিকসভা সিআইআই-এর ডিজি চন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আর্থিক সমীক্ষাতেও উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। যা অত্যন্ত জরুরি।’’

আরও পড়ুন