— প্রতীকী চিত্র।
আগামী বারো মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কর্মী-অফিসারদের বেতন সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্দেশ দিল অর্থ মন্ত্রক। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ওই সব ব্যাঙ্ক ও রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই সংশোধন হয়। ২০২৭ সালের ১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী দফার বেতন সংশোধন কার্যকর হওয়ার কথা। কেন্দ্র চায় তার আগে সেই প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেটা নিশ্চিত করতে। সেই কারণে সময় বেঁধে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। যদিও এ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। কর্মী সংগঠনের একাংশের বক্তব্য, সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ-সহ আগের চুক্তির বহু বিষয় এখনও কার্যকর হয়নি। তার আগেই নতুন এই নির্দেশে কেন্দ্রের আদৌ চুক্তি নিয়ে এগোনোর ক্ষেত্রে কতটা সদিচ্ছা রয়েছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, প্রতি বার বেতন সংশোধন চুক্তি হয়ে তা চালু হতে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যায়। এ বার সরকার চায় সময়সীমার আগেই সেই প্রক্রিয়া সারতে। যাতে সংশোধনের দিন থেকে তা কার্যকর করা যায়। তাই ত্রয়োদশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে জোর দিচ্ছে তারা। সাধারণত সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, কিছু পুরনো বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাঙ্কে এই বেতন সংশোধন চুক্তি কার্যকর হয়। মন্ত্রকের নির্দেশের পরে ব্যাঙ্ক মালিকদের সংগঠন আইবিএ কর্মী ও সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েও আগের চুক্তি ঠিকমতো কার্যকর নাহওয়ার কথা তুলছে কর্মী সংগঠনগুলি। ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠন আইবকের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সরকার এখনও আগের চুক্তির কিছু শর্ত পূরণ করেনি। তার মধ্যে সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ ছাড়াও আর্থিক দাবির বিষয় রয়েছে। তার আগেই নতুন বেতন সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে। ফলে কর্মীদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া ঠিকমতো দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র কতটা সদিচ্ছুক, সন্দেহ আছে।’’
একই মত ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ ইউএফবিইউ-এর আহ্বায়কসুদীপ দত্ত এবং অল ইন্ডিয়া ন্যাশনালাইজ়ড ব্যাঙ্ক অফিসার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয়দাসেরও। তাঁরা জানান, অর্থ মন্ত্রকের পদক্ষেপে খুশি। কিন্তু গত বার সার্বিক ভাবে যে চুক্তি হয়েছিল, পাঁচ দিন কাজ-সহ তার বেশ কিছু বিষয় এখনও কেন্দ্র মেটায়নি। তা দ্রুত পূরণ হবে বলে আশা তাঁদের। ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠন এআইবিইএ-র সভাপতি রাজেন নাগরের দাবি, বেতন সংশোধনের কাজে সাহায্যের জন্য কর্মীরা প্রস্তুত।