ছবি: সংগৃহীত।
‘সোনার শহরে’ জলের দরে বিকোচ্ছে হলুদ ধাতু। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিপুল ছাড়ে দুবাইয়ে বিক্রি হচ্ছে সোনা। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে সোনার রফতানিতে বাধা পড়েছে। ফলে স্বর্ণব্যবসায়ীরা কম দামে স্থানীয় বাজারে সোনা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আরব মুলুকের শহরটিতে প্রতি আউন্সে ৩০ ডলার ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে সোনা।
যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে সাধারণত সোনার দাম উর্ধ্বমুখী হয়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পরিবহণ সঙ্কট ও চাহিদা কমার কারণে এর বিপরীত প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ব্যাপক ছাড়ে সোনা বিক্রি করে দেওয়ার হিড়িক উঠেছে দুবাইয়ে। সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক দোলাচলের জেরে বহু ক্রেতা নতুন অর্ডার দেওয়া বন্ধ করেছেন। কারণ সেই সোনা দ্রুত সরবরাহ করার বিষয় নিয়েও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। সময়সীমা নিশ্চিত না করে পরিবহণ এবং বিমার অতিরিক্ত খরচ বহন করতে অনিচ্ছুক বিভিন্ন দেশের সোনা আমদানিকারী সংস্থাগুলি। ফলে দুবাইয়ের স্বর্ণব্যবসায়ীরা লন্ডনের বিশ্বব্যাপী বেঞ্চমার্কের তুলনায় প্রতি আউন্সে ৩০ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজ়রায়েল এবং ইরানের সংঘাতের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও উত্তেজনা থামেনি। হামলার জেরে দুবাইয়ের আকাশসীমার কিছু অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বিশেষ করে দুবাই, এশিয়া জুড়ে ক্রেতাদের কাছে সোনা পরিশোধন ও রফতানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বলে পরিচিত। সুইৎজ়ারল্যান্ড, ব্রিটেন এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ থেকে পণ্য পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হল দুবাই। সাধারণত যাত্রিবাহী বিমানের কার্গো বিভাগের মাধ্যমে সোনা পরিবহণ করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ব্যবসায়ী এবং সরবরাহকারীরা সৌদি আরব, ওমানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির বিমানবন্দর দিয়ে উচ্চমূল্যের সোনা পরিবহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাতে পরিবহণ খরচ যেমন বাড়বে, তেমনই ঝুঁকির আশঙ্কাও থাকে বহু গুণ। বিশেষ করে সড়কপথে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছোনোর সময়।
দুবাই থেকে আমদানি করা সোনার চাহিদা রয়েছে ভারতেও। ভারতীয় স্বর্ণব্যবসায়ী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি মাসে চাহিদার তুলনায় আমদানির পরিমাণ বেশি ছিল তাই আপাতত ভারতে সোনার ঘাটতি নেই। এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে সোনা মজুত রয়েছে। কিন্তু যদি এই সংঘাত কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে, তা হলে সমস্যা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছে ভারতীয় স্বর্ণব্যবসায়ী সংস্থাগুলি।