নির্মলা সীতারামন। — ফাইল চিত্র।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে গোটা দেশের সমস্ত রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা আগামী মাসে কলকাতায় হাজির হচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রথম বার ক্ষমতায় আসার পরে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটতে চলেছে। কারণ, গত দশ বছরে জিএসটি-ইতিহাসে (পণ্য ও পরিষেবা কর) এই প্রথম কলকাতায় জিএসটি পরিষদের বৈঠক বসছে। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহের শেষে এই বৈঠক হবে।
অর্থ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় রাজ্য সরকার সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের নীতির বিরোধিতা করত। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসূচি থেকে বাংলা কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকত। এখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যে ‘সদর্থক পরিবর্তন’-এর বার্তা দিতে কলকাতায় বৈঠক ডাকা হবে বলে ঠিক হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র-রাজ্য মনে করছে, এর ফলে দেশের সামনে পশ্চিমবঙ্গের ‘ইতিবাচক ছবি’ তুলে ধরা যাবে। অন্যান্য রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের কলকাতায় থাকাকালীন শহরের বিশেষ কিছু পর্যটন স্থল বা তীর্থক্ষেত্রে ঘোরানোর ব্যবস্থা হতে পারে।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, ১৯ জুলাই থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতায় জিএসটি পরিষদের বৈঠক হবে। নির্দিষ্ট দিন ক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ২৭ জুলাই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রাজ্যে ঋণের জোগান বাড়ানোনিয়ে কলকাতায় বৈঠক করতে যাবেন বলে আগে থেকেই ঠিক রয়েছে। তার আগে তিনি জিএসটি পরিষদের বৈঠকে যোগ দেবেন।
২০১৭ থেকে দেশে জিএসটি চালু হয়। ২০১৬ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে জিএসটি পরিষদের বৈঠক বসছে। এখনও পর্যন্ত ৫৬টি বৈঠক হয়েছে। অধিকাংশ সময়ে দিল্লিতে বৈঠক হলেও বিভিন্ন সময়ে শ্রীনগর, লখনউ, গুয়াহাটি, গোয়া, জয়সলমের, হায়দরাবাদ, চণ্ডীগড়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় কখনও বৈঠক হয়নি।
গত বছর সেপ্টেম্বরে জিএসটি পরিষদের শেষ বৈঠকে জিএসটি-র কর কাঠামোয় বড় মাপের পরিবর্তন হয়েছিল। মূলত দু’টি জিএসটি-র হার চালু হয়। তার ফলে বহু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমেছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল। কলকাতার বৈঠকে মূলত জিএসটি ব্যবস্থায় প্রক্রিয়াগত সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে বলে অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর। সাধারণত প্রতি তিন মাসে এক বার জিএসটি পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু গত ন’মাসে এক বারও বৈঠক না হওয়ায় জিএসটিসংক্রান্ত বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে শিল্পমহলের দাবি। কলকাতার বৈঠক থেকে তার সমাধান মিলবে তাঁদের আশা।