টালিগঞ্জ স্টেশনে যাত্রীদের নামিয়ে খালি করা হচ্ছে মেট্রো। শনিবার সকালে। —নিজস্ব চিত্র।
ফের মেট্রোর লাইনে আত্মহত্যা। শনিবার সকালে কালীঘাট স্টেশনে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেন এক ব্যক্তি। লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। এর ফলে সকাল সকাল ব্যাহত হয়েছে পরিষেবা। মেট্রো বেশ কিছু ক্ষণ ভাঙা পথে চলেছে। সকাল ৭টা ৫০ মিনিট নাগাদ ফের পরিষেবা চালু হয়।
স্টেশনে স্টেশনে ঘোষণা করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, কালীঘাট স্টেশনে এক যাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টার কারণে সকালের পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ময়দান থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত এবং টালিগঞ্জ থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছিল। আপ এবং ডাউন দুই লাইনেই ভাঙা পথে পরিষেবা সচল ছিল। ময়দানের পরের স্টেশন অর্থাৎ, রবীন্দ্রসদন থেকে রবীন্দ্র সরোবর পর্যন্ত মেট্রো বন্ধ রাখা হয়েছিল। কলকাতা মেট্রোর অ্যাপেও এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টায় ছিলেন কর্তৃপক্ষ। সেই মতো কিছু ক্ষণের মধ্যেই ফের সম্পূর্ণ রুটে মেট্রো চালানো গিয়েছে।
সপ্তাহান্তের কাজের দিনে মেট্রোয় সকাল থেকেই ছিল চেনা ভিড়। আচমকা মেট্রো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অফিসযাত্রী এবং নিত্যযাত্রীরা সমস্যায় পড়েন। টালিগঞ্জ স্টেশনে মেট্রো থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পর পর সব স্টেশনেই মেট্রো দাঁড়িয়ে পড়ে। অনেককেই গন্তব্যে পৌঁছোনোর বিকল্প ব্যবস্থা করে নিতে হয়েছে। কেউ কেউ পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। তবে পরিষেবা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকায় স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়। ফলে মেট্রো চলাচল ফের শুরু হলেও পরবর্তী মেট্রোগুলিতে যাত্রীদের চাপ থাকছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
কলকাতা মেট্রোয় আত্মহত্যা নতুন নয়। ব্লু লাইনের স্টেশনগুলিতে প্ল্যাটফর্ম এবং মেট্রোর লাইনের মধ্যে কোনও পাঁচিল না থাকায় বরাবরই এই স্টেশনগুলি ঝুঁকিপূর্ণ। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে বার বার যাত্রীদের তা নিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যে বদলায়নি, তা ফের প্রমাণ করে দিল শনিবার সকালে ঘটনা।