—প্রতীকী ছবি।
স্বাস্থ্যবিমার গ্রাহকদের মাথায় হাত! লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এর কিস্তির টাকা। গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার বিমার উপর থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) প্রত্যাহার করে কেন্দ্র। ফলে এটি সস্তা হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছিল। যদিও বাস্তবে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র সামনে আসায় হতবাক গ্রাহকেরা।
জিএসটি শূন্য হওয়ার কোনও সুবিধা মেলেনি, এমনটা নয়। এতে হ্রাস পেয়েছে নতুন স্বাস্থ্যবিমার খরচ। কিন্তু গ্রাহকদের অভিযোগ, চিকিৎসা সুরক্ষার নথি পুনর্নবীকরণ করতে গেলেই প্রতি কিস্তিতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি টাকা দিতে হচ্ছে তাঁদের। এর নেপথ্যে একাধিক কারণের কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রথমত, স্বাস্থ্যবিমা কোনও সুনির্দিষ্ট মূল্যের পণ্য নয়। আর তাই চিকিৎসা সুরক্ষার খরচ ঊর্ধ্বমুখী হলে, এর কিস্তির অঙ্ক বাড়াতে পারে বিমা সংস্থা। সেই নিয়মের জাঁতাকলেই বেশি টাকা দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে। আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে সে সব তুলে ধরা হল।
স্বাস্থ্যবিমার কিস্তির টাকা বৃদ্ধি পেলেই কী কারণে বাড়তি অর্থ নেওয়া হচ্ছে, সেটা সবার আগে গ্রাহককে বুঝতে হবে। বহু ক্ষেত্রে বয়সজনিত কারণে এটা করে থাকে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তা ছাড়া আনুসাঙ্গিক বহু কারণ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে কিস্তি পর্যালোচনার সুযোগ পেতে পারেন গ্রাহক।
চিকিৎসার বিমায় বিনিয়োগকারীদের অনেকেই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য বাড়তি টাকা দিয়ে থাকেন। সেই প্রয়োজন আদৌ রয়েছে কি না, তা গ্রাহককে ঠিক করতে হবে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে থাকলে বা স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে, ওই খাতে খরচ হ্রাস করতে পারেন তিনি। এতে অনেকটাই কমবে স্বাস্থ্যবিমার কিস্তির খরচ।
পাশাপাশি, এই খাতে ব্যয় অনেকটা বৃদ্ধি পেলে বিমার প্ল্যান পরিবর্তনের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে পারেন গ্রাহক। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধুমাত্র কিস্তির জন্য এটা করা উচিত নয়। তা ছাড়া নতুন প্ল্যানে যাওয়ার আগে বিমা কভারেজ-সহ অন্য সুযোগ সুবিধাগুলি ভাল ভাবে যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
কিস্তির খরচ কমাতে কর্তনযোগ্য (ডিডাক্টবল) স্বাস্থ্যবিমা বাছতে পারেন গ্রাহক। একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি ২৫,০০০ টাকার ডিডাক্টবল চিকিৎসা বিমা করলেন। তাঁর হাসপাতালের বিল দু’লাখ টাকা হলে, ওই ব্যক্তি নিজের পকেট থেকে প্রথমে দেবেন ২৫,০০০ টাকা। বাকি অর্থ মেটাবে বিমা সংস্থা।
এই ধরনের প্ল্যানের ক্ষেত্রে ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে কিস্তির টাকা। এ ছাড়া সুপার টপ আপ ব্যবহার করে স্বাস্থ্যবিমায় আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারেন গ্রাহক। হাসপাতালের বিল অনেক বেশি হলে এটি দারুণ ভাবে কাজে আসে, তা বলাই বাহুল্য।