— প্রতীকী চিত্র।
টাকার দরের পতন রুখতে ও চলতি খাতে ঘাটতিতে রাশ টানতে বুধবার সোনায় আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ বাড়িয়েছে কেন্দ্র। তবে সেই লক্ষ্য সফল হওয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে দিনের মাঝে এক সময়ে ডলার পৌঁছেছিল ৯৫.৮০ টাকায়। এর আগে কখনও তা এতটা ওঠেনি। পরে অবশ্য টাকা কিছুটা মুখ তোলায় দিনের শেষে ডলার দাঁড়িয়েছে ৯৫.৬৬ টাকা। মঙ্গলবারের নজিরবিহীন উচ্চতা (৯৫.৬৮ টাকা) থেকে মাত্র ২ পয়সা কম। ফলে অন্তত এ দিন এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন বাজারে পড়েনি।
এ দিকে টানা চারটি লেনদেনে নামার পরে বুধবার সামান্য উঠেছে শেয়ার বাজার। সেনসেক্স ৪৯.৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪,৬০৮.৯৮ অঙ্কে থেমেছে। অস্থির বাজারে সারাদিনের লেনদেনে সূচটি ওঠানামা করেছে প্রায় ১০৫৭ পয়েন্ট। নিফ্টি ৩৩.০৫ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ২৩,৪১২.৬০।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনায় শুল্ক বাড়ায় তার আমদানি হ্রাস ও ডলার সাশ্রয় হলেও, তাতে চোরাচালান বাড়তে পারে। ফলে টাকার পতনে সাময়িক রাশ টানা গেলেও, দীর্ঘ মেয়াদে লক্ষ্য পূরণ হবে না। উল্টো দিকে এতে দেশে সোনার দাম বাড়লে লগ্নির গন্তব্য হিসেবে ধাতুটিতে আগ্রহ বাড়বে। শেয়ার বাজার থেকে এ বছরে ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ কোটি টাকার বিদেশি পুঁজি বেরিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি না ফিরলে ও অশোধিত তেল ব্যারেলে ১২০ ডলারে (এখন ১০৬ ডলারের আশপাশে) পৌঁছলে ডলার ৯৮ টাকায় পৌঁছনোও বিচিত্র নয়।
আইসিএআই-এর পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন কর্তা অনির্বাণ দত্ত বলেন, ‘‘টাকার দরের পতন নিয়ে কেন্দ্র উদ্বিগ্ন। শুধু দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে সুফল মিলবে না, যদি না কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর হয়। এ কারণেই এই পদক্ষেপ করছে তারা। সোনায় আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি যার অঙ্গ। তবে পেট্রল ও ডিজ়েলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। অশোধিত তেলের আমদানির জন্য যে ডলার খরচ হয়, তা কমাতে দেশে তেলের দাম বাড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়।’’