—প্রতীকী চিত্র।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরীর সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও। জানালেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সমস্ত মন্ত্রককে একযোগে কাজ করতে হবে। তৈরি থাকতে হবে যে কোনও সঙ্কট সামলানোর জন্যও। দেশবাসীর উদ্দেশে পুরীর আশ্বাস, গৃহস্থের হেঁশেলে রান্নার গ্যাসের অভাব হবে না। পর্যাপ্ত এলপিজি ও এলএনজি রয়েছে। অত্যাবশ্যক পণ্যে গ্যাস জোগানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের এক তালিকাও প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। যেখানে শীর্ষে বাড়িতে রান্নার জ্বালানি। বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে কী হারে গ্যাস দেওয়া হবে, তা-ও বলা হয়েছে সেখানে। তবে উদ্বেগ বাড়িয়ে এ দিন ডিজিটাল ইনফ্রা প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, মোবাইল টাওয়ার চালানোর এলপিজি মঙ্গলবার থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি আরও দিনকতক চলে দেশে মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বলে দাবি হোটেল-রেস্তরাঁগুলিরও।
স্পেশালিটি রেস্টরেন্টস-এর কর্ণধার অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় জানান, অবস্থা না বদলালে ২-৩ দিনের মধ্যে কলকাতার শাখা বন্ধ করে দিতে হতে পারে। বুধ বা বৃহস্পতিবার থেকে রেস্তরাঁ বন্ধ হবে বলে আশঙ্কা পূর্বাঞ্চলের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির সবচেয়ে বড় সংগঠন এইচআরএআই-এর সভাপতি সুদেশ পোদ্দারেরও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘তেল মন্ত্রককে দেওয়া চিঠিতে কোভিডের সময়ের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছি, এই ক্ষেত্রকেও অত্যাবশ্যক পণ্য আইনের আওতায় আনা হোক। যাতে ন্যূনতম গ্যাস দিয়ে পরিষেবা চালাতে পারি।’’ আর এক সংগঠন এনআরএআই-এর সভাপতি সাগর দরিয়ানি জানান, রেঁস্তোরা বন্ধের জেরে কাজ হারাতে পারেন কয়েক কোটি মানুষ।
খবর, গ্যাসের অভাবে মুম্বই, চেন্নাই, দিল্লি-সহ একাধিক শহরের বহু হোটেল-রেস্তরাঁ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কলকাতা-সহ রাজ্যেও এই ছবি দেখতে হতে পারে, আশঙ্কা কে সি দাশের কর্ণধার ধীমান দাশের। তিনি জানান, রাজ্যে ৯৯% মিষ্টির দোকান এলপিজি-তে চলে। ১-২ দিনে পরিস্থিতি না শোধরালে সেগুলি বন্ধ হবে। সমস্যার কথা জানিয়ে তেল মন্ত্রককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাঠানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও। তাঁরা চান মিষ্টির দোকানগুলিকেও অত্যাবশ্যক আইনের অধীনে এনে জ্বালানি দেওয়া হোক। কলকাতার বিরিয়ানি চেন আর্সালান কাঠের উনুনে রান্নার কথা ভাবছে। অনেকে কম গ্যাস লাগে এমন পদ রান্না করবে।
অত্যাবশ্যক পণ্য আইন, ১৯৫৫-র অধীনে জারি বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র স্পষ্ট বলেছে, বাড়িতে পাইপবাহিত রান্নার গ্যাস, এলপিজি এবং যানবাহনে যাতায়াতের জন্য সিএনজি গুরুত্বের তালিকায় শীর্ষে। অর্থাৎ এগুলিতে ১০০% জ্বালানি দিতে হবে। এর পরে সার এবং চা শিল্প, দেওয়া হবে চাহিদার যথাক্রমে ৭০% এবং ৮০%। তার পরে শেষ ছ’মাসের চাহিদার ৮০% দেওয়া হবে সিটি গ্যাসকে আর ৬৫% পাবে তেল শোধনাগারগুলি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই নির্দেশিকা জারি করে সরকার জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিল। যাতে কালোবাজারি বা বেআইনি মজুত না হয়।
ইন্ডেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষকর্তা বিজন বিশ্বাস জানান, অশোধিত তেল থেকে এলপিজি তৈরির বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। এইচপিসিএল এলপিজি ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় আগরওয়ালের আশঙ্কা, চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। শোধরাতে পারে পরের সপ্তাহে। আজ থেকে আর বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দেওয়া যাবে না। ভারত গ্যাসের এক ডিস্ট্রিবিউটরও জানান, বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দেওয়া বন্ধের কথা। তবে অত্যাবশ্যক ক্ষেত্রের জন্য কিছু আসছে। সরকারি সূত্রের খবর, দেশে এলপিজির জোগান বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি তেল সংস্থাগুলি তাদের শোধনাগারে মঙ্গলবার থেকেই এলপিজি উৎপাদন শুরু করেছে কিংবা বাড়িয়ে দিয়েছে।