—প্রতীকী চিত্র।
তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই বিএনপি সরকারের সঙ্গে যৌথ ভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করার বার্তা দিয়েছিল ভারত। মোদী সরকারের লক্ষ্য ছিল, গোড়াতেই বেশি হইচই না করে ঢাকার সঙ্গে আদানপ্রদানের দরজাগুলি খোলা রাখা। ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সম্প্রতি যথেষ্ট গোপনীয়তায় ভারতে একাধিক বৈঠক করে গেলেন সে দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। খবরটি কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ্যে আসার পর গুঞ্জন শুরু হয়েছে দ্বিপাক্ষিক মহলে।
জানা গিয়েছে, কায়সার রশিদ বৈঠক করেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন এবং সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এস রমনের সঙ্গে। একে অন্যের দেশের মাটিকে ব্যবহার করে যেন কোনও নাশকতাকে প্রশ্রয় দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে দু’পক্ষই একমত হয়েছে। গত ১৮ মাস ধরে বন্ধ থাকা দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের পুরনো পথগুলো পুনরায় সচল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই সেনা ও গোয়েন্দা বিভাগে বড় রদবদল হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব পান নতুন ডিজিএফআই প্রধান। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর এই দিল্লি সফরকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ভূমিকা বরাবরই দিল্লির কাছে উদ্বেগের। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেখানকার অস্থিরতা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে গোয়েন্দা পর্যায়ে এই সমন্বয় দিল্লির উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।