Retail Inflation

বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম, চার শতাংশের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল খুচরো মুদ্রাস্ফীতি

যদিও কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের বক্তব্য, তেলের দামের অবস্থা আশঙ্কার তুলনায় ভাল। কেন্দ্র ও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপের হাত ধরে পরিস্থিতি এখন আয়ত্তের মধ্যে।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৮:০৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জের যে ভারতীয় অর্থনীতিতে পড়ছে, তা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই সতর্ক করছে বিভিন্ন মহল। কয়েক দিন আগে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সমীক্ষাও জানিয়েছিল, মে মাসে দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলাও বিচিত্র নয়। বিশেষত যেখানে গত মাস থেকে দেশে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৭.৪%, ডিজ়েলের ৮.৪%। সেই আশঙ্কা সত্যি করে ৪ শতাংশের দোরগোড়ায় পৌঁছল মূল্যবৃদ্ধি। মানুষের চিন্তা আরও বাড়িয়ে মে মাসে দাঁড়াল ৩.৯৩ শতাংশে। মূলত জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও তার জেরে খাদ্যপণ্যের দর মাথাচাড়া দেওয়াই এর কারণ বলে প্রকাশ সরকারি পরিসংখ্যানে। যা জানাচ্ছে, গত মাসে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৪.৭৮%। এপ্রিলে ছিল ৪.২%।

যদিও কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের বক্তব্য, তেলের দামের অবস্থা আশঙ্কার তুলনায় ভাল। কেন্দ্র ও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপের হাত ধরে পরিস্থিতি এখন আয়ত্তের মধ্যে। সরকারের বিভিন্ন নীতির পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ঝুঁকিও কিছুটা কমা স্বস্তি দিচ্ছে। তাঁর দাবি, ‘‘সবচেয়ে খারাপ সময় পিছনে ফেলে এসেছি আমরা।’’

ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ। তার পরে মার্চ ও এপ্রিলে মাথা তুলে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি হয় যথাক্রমে ৩.২১% ও ৩.৪৮%। চড়ছিল নিত্যপণ্যের দামও। এ দিন সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, সোনা-রুপোর গয়না, টোম্যাটো, আদা, কিশমিশের দাম বেড়েছে মে মাসে। কমেছে আলু, মটর, জিরা, জিপ, বাইক ও স্কুটারের। গ্রামে মূল্যবৃদ্ধি ৪.২৫% ছুঁলেও, শহরে ৩.৫৩%।

এপ্রিলের পরে এ মাসের ঋণনীতিতেও সুদ স্থির রেখে ২০২৬-২৭ সালের জন্য মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৬% থেকে বাড়িয়ে ৫.১% করেছে আরবিআই। জানিয়েছে, এই যুদ্ধ এবং এল নিনিয়োর প্রভাবে কৃষি ফলন ধাক্কা খেলে তা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কাও থাকছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, যে হারে জিনিসপত্রের দাম চড়ছে, তাতে জুনের ঋণনীতিতেই সুদ বৃদ্ধি জরুরি ছিল। অন্য অংশ বলছে, শীর্ষ ব্যাঙ্ক পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নিতে চাইছে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমেছে। এই অবস্থা চললে অগস্টেও সুদ স্থির রাখতে পারে আরবিআই।

আরও পড়ুন