সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ফ্লিপকার্টের শেয়ার বিক্রি করে হওয়ার মুনাফার উপরে ভারতে টাইগার গ্লোবাল মূলধনী লাভকর দিতে বাধ্য বলে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির (এফডিআই) ক্ষেত্রে এই রায়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তে ভারতের বিভিন্ন সংস্থায় নিজেদের অংশীদারির কাঠামো নিয়ে দু’বার ভাববে বিদেশি লগ্নিকারীরা। আবার বেআইনি লেনদেন হয়েছে মনে করলে ব্যবস্থা নিতে পারবেন কর আধিকারিকেরা। এর জেরে ভারতে বিদেশি লগ্নিপ্রবাহ ধাক্কা খেতে পারে।
২০১৮ সালে ১৬০০ কোটি ডলারে ফ্লিপকার্টের অংশীদারি কেনে ওয়ালমার্ট। ই-কমার্স সংস্থাটিতে নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে আমেরিকার লগ্নিকারী সংস্থা টাইগার গ্লোবাল পায় ১৬০ কোটি ডলার (প্রায় ১৪,৬০০ কোটি টাকা)। সেই টাকার উপরে মূলধনী লাভকর দাবি করে আয়কর দফতর। যার বিরুদ্ধে আবেদন জানায় সংস্থা। তাদের দাবি ছিল, তাদের মরিশাস শাখা এই লগ্নি করেছে তারা। ফলে দু’দেশের মধ্যে থাকা চুক্তি অনুসারে তারা ভারতে কর দিতে বাধ্য নয়। আয়কর দফতরের যুক্তি ছিল, লগ্নি এবং তা থেকে বেরোনোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মরিশাসের বাইরে থেকে। মূলত করে সুবিধা নিতেই মরিশাসে সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল। ফলে সংস্থা প্রায় ৯৬৭.৫১ কোটি টাকা মূলধনী লাভকর দিতে বাধ্য। এই মামলায় ২০২০ সালে অথরটি অব অ্যাডভান্স রুলিংসের রায় যায় দফতরের পক্ষে। ২০২৪-এ দিল্লি হাই কোর্ট রায় দেয় আমেরিকার সংস্থার পক্ষে। সেই রায়ই খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মরিশাসের মাধ্যমে ভারতে এফডিআই-এর প্রায় ৩০% আসে। করছাড়ের আবেদন করতে বিদশি সংস্থাগুলি জমা দেয় ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেট বা টিআরসি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শুধুমাত্র টিআরসি-র মান্যতা থাকবে না। জরুরি হবে আসলে মরিশাসের মতো দেশে থেকে ব্যবসা করা ও সেই সংক্রান্ত নথি। আবার দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকির জন্য এ ভাবে সংস্থাগুলি লগ্নি করছে বলে সন্দেহ থাকলেও কর-কর্তারা ব্যবস্থা নিতে পারতেন না টিআরসি-র কারণে। এখন চাইলে সেই পথে হাঁটতে পারবেন তাঁরা। যা বিদেশি সংস্থাগুলিকে ভারতে লগ্নি থেকে বিমুখ করতে পারে, মত বিশেষজ্ঞদের।