Review of Books

পাঠে পাঠান্তরে বঙ্গসত্তা

এ বইয়ের উপশিরোনামের চারটি শব্দ, ‘ব্যক্তি বই আড্ডা গান’ আসলে এক আভাস, কোন বাঁকে কী ধন সে দেখাবে— তার।

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শ্রীচৈতন্যের ধর্মপ্রচারের অনুষঙ্গে সুগম হয়েছে যাত্রাপালার পথ, ষোলো থেকে আঠারো শতকে মুখে মুখেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তার ঐতিহ্য। উনিশ শতক ইস্তক ছাপাখানার দৌলতে আমরা তার লেখ্য ও সংরক্ষিত রূপটি পাচ্ছি, কিন্তু বহু রচয়িতার সৃষ্টি গেছে হারিয়ে। মিতায়তন, সুলিখিত বইটিতে বাংলার যাত্রাগানের সুস্পষ্ট পথনির্দেশ পাবেন পাঠক। উনিশ শতকের গোবিন্দ অধিকারী কৃষ্ণকমল গোস্বামী মতিলাল রায় হয়ে বিশ শতকে মুকুন্দদাস ফণীভূষণ বিদ্যাবিনোদ ব্রজেন্দ্রকুমার দে থেকে উৎপল দত্ত ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের সূত্রে যাত্রার রূপ-রূপান্তরের ছবি ফুটে উঠেছে সেখানে।

কালান্তরে বাংলার যাত্রাগান

দেবজিত্‌ বন্দ্যোপাধ্যায়

৪০০.০০

আনন্দ

এ বইয়ের উপশিরোনামের চারটি শব্দ, ‘ব্যক্তি বই আড্ডা গান’ আসলে এক আভাস, কোন বাঁকে কী ধন সে দেখাবে— তার। ‘কয়েকজন উজ্জ্বল মানুষ, তাঁদের কর্মচাঞ্চল্য কিংবা কীর্তিকলাপ সমেত’ ধরা পড়েছেন লেখকের ভাবনার অক্ষরে, তাঁদের কারও প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য পেয়েছেন তিনি, আবার দূরবর্তী কারও গভীর প্রভাব রয়ে গেছে তাঁর জীবনে। কাছ থেকে দেখা-শোনা শঙ্খ ঘোষ অমিয় দেব মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় শাঁওলী মিত্র নবারুণ ভট্টাচার্য দেবেশ রায় রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যেরা আছেন যেমন, তেমনই ভারাভারা রাও কিংবা নারায়ণ দেবনাথও। তিনটি সাক্ষাৎকার ও একটি অনুবাদ-নমুনাও তার সঙ্গী।

কত আলোর সঙ্গ

অভীক মজুমদার

৬৫০.০০

রাবণ

জীবনানন্দ দাশের লেখা উপন্যাসগুলি সম্পাদনা-প্রকাশনার যে প্রতিক্ষণ-প্রকল্প, তারই অঙ্গ সদ্যপ্রকাশিত এই উপন্যাস। তার ‘প্রামাণ্য পাঠ’-এর অর্থ কী, কী ভাবে তা হয়ে উঠল, শুরুতে তা বিশদে জানিয়েছেন সম্পাদকমণ্ডলী। জীবনানন্দের নিজের হাতে লেখা ‘লিটারেরি নোটস’ সম্বলিত খাতাগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ মিলিয়ে দেখে, বাইশ বছর আগে প্রকাশিত উপন্যাসটির মুদ্রিত রূপের ‘ভুল’গুলি সংশোধনের কাজ শুধু সম্পাদনার নৈতিকতাই নয়, জীবনানন্দের প্রকৃত ও সার্থক পাঠের দায়বদ্ধতাও তুলে ধরে, বাংলা বই-বাজারে যা ইদানীং বিরলতম। শেষে প্রতিটি পরিচ্ছেদ ধরে ধরে প্রয়োজনীয় টীকায় পাঠক উপন্যাসের সম্পূরক তথ্যের নাগাল পাবেন।

সফলতা-নিষ্ফলতা: প্রামাণ্য পাঠ

জীবনানন্দ দাশ

৪৭৫.০০

প্রতিক্ষণ, এসসিটিআর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

ক্ষীণতনু কাব্যগ্রন্থটির সুর বাঁধা নস্টালজিয়ায়। “তোমাকে দেখিনি যেন কত জন্ম হল/ তোমাকে শুনেছি তবু ভোরে ভীষ্মদেব...” ‘বাবাকে’ কবিতার এই লাইন চুম্বকে ধরে দেয় সম্পর্কটির অভিজ্ঞান। একই রেশ ফিরে আসে পুরনো পাড়ার কথায়, “নোনা দেওয়ালে বৃষ্টির মারাত্মক ক্ষত উপেক্ষা করে লোলচর্ম লাইব্রেরির ঘর”— ফেলে যাওয়া পুরনো পাড়ার গন্ধ আসে নাকে। শিরোনাম ধার করছে যে কবিতাগুচ্ছ থেকে, সেই ‘বলিউড সিরিজ়’-এও পাঁচটি পুরনো হিন্দি ছবির সূত্রে দেখা দিয়ে যায় অতীত— কখনও সামাজিক, কখনও নিতান্ত ব্যক্তিগত।

বলিউড সিরিজ়

অগ্নি রায়

৩০০.০০

সিগনেট প্রেস

গোয়েন্দা হিসাবে আদিত্য মজুমদারের ইদানীং কিঞ্চিৎ খ্যাতি হয়েছে। তাঁর রহস্যভেদী ক্ষমতাও সম্ভবত তীক্ষ্ণতর হয়েছে। এ দফায় তাঁকে কলকাতা থেকে দূরে পাড়ি দিতে দেখা গেল। আদিত্যর চরিত্রও ক্রমে ফুটে উঠেছে আরও স্পষ্ট ভাবে। মুখবন্ধে লেখক বলেছেন, তাঁর নায়ক আদিত্য সুখী সংসারী মানুষ— এবং, ইদানীং কালের বাংলা সিনেমা-টেলিভিশনের পর্দা বা বইয়ের পাতায় অন্য যে পুরুষ গোয়েন্দাদের দেখা মেলে, এ দিক থেকে আদিত্য তাদের চেয়ে আলাদা।

কলঙ্করেখা

অভিরূপ সরকার

৪০০.০০

দীপ

এ কথা ঐতিহাসিক সত্য, ব্রিটিশ শাসন-পূর্ব বাংলা ছিল সে আমলে পৃথিবীর সমৃদ্ধতর জনপদগুলির একটি। তার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অর্জনগুলি নিয়ে আলোচনাই উপজীব্য এই প্রবন্ধ সঙ্কলনের। প্রবন্ধগুলির মধ্যে এসেছে রমেশচন্দ্র দত্তের লেখা ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘স্বদেশী সমাজ’ প্রবন্ধের আলোচনা। তেমনই বৈষ্ণব সাহিত্য, কীর্তন ও বাংলার কাব্য, খনার বচন, শুভঙ্করী আর্যার আলোচনায় লেখক তুলে এনেছেন বাংলার সমন্বয়ী সৃষ্টিশীল সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলটির ছবি। আলোচনা আছে দেশভাগ ও গান্ধীজির নেতৃত্বে বাংলায় সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী রাজনীতির চেহারা নিয়ে।

বাংলার পথ

সোমনাথ রায়

১২২.০০

গুরুচণ্ডা৯

এক জন লেখক কি গোটা জীবন ধরে একটাই বই লিখে চলেন? যদি তা-ই হয়, তবে রংগন চক্রবর্তী সত্যিই সারা জীবন ধরে বিজয়গড় নামক দেশটির কথা লিখে চলেছেন— এমন একটা দেশ, মানচিত্রে তার একটা হদিস হয়তো আছে, কিন্তু আসলে সে দেশকে বাইরে থেকে দেখা যায় না। এ যেন লেখকের এক নিজস্ব মাকোন্দো বা নার্নিয়া। সেখানে ঝগড়া হলে বলে দেওয়া যায় ‘কোনও মিউচুয়াল নাই’, আবার এক সঙ্গে রুখে দেওয়া যায় বাইরের হামলাবাজকে। ছিন্নমূল হয়ে নতুন ভাবে বেঁচে ওঠার চেষ্টার নিক্তিতে মেপে নেয় উদ্বাস্তু কলোনির জীবন। অর্ধ শতকেরও কম দূরত্বকে আজ মনে হয় এক গ্রহান্তরের কাহিনি।

দেশের নাম বিজয়গড়

রংগন চক্রবর্তী

৪৫০.০০

দে’জ়

প্রথম প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে অনেক চর্চা চলে এখনও। নির্জোট আন্দোলনে ভারতের নেতৃত্বই হোক, আর আমেরিকার সঙ্গে ভারসাম্যের খেলাই হোক, জওহরলাল নেহরু ভারতের বিদেশদর্শন কী ভাবে পরিচালিত করেছেন, তা নিয়ে প্রশংসা ও নিন্দার দু’টি ধারাই বেশ পুষ্ট। কিন্তু নেহরুর সময়ে ভারতীয় সংসদে কী তর্কবিতর্ক হত, বিরোধীরা, বিশেষত কমিউনিস্টরা তাঁদের আপত্তি-ওজরের মাধ্যমে কতখানি সেই নীতিকে প্রভাবিত করতেন, বাম নেতারা কী বলতেন, এ সব জানতে পারা যায় তুলনায় কম। লোকসভার অন্দরে, আর রাজনীতির চত্বরের সেই সব কাহিনি এই বইয়ে মেলে। অসাধারণ কৃতী এই বামপন্থী নেতা ও ভাবুকের জীবনকাহিনি শুধু নয়, তাঁর সূত্রে ভারত ইতিহাসকেই ফিরে দেখার সুযোগ। হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর প্রাপ্য গুরুত্ব এখনও পাননি, সুতরাং এই বই একটি জরুরি পাঠ্য।

কম্যুনিস্ট ঋষি: অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী

সুমঙ্গল চট্টোপাধ্যায়

৪৬০.০০

পারুল

ভাষা=কথ্য উপভাষা+লেখ্য উপভাষা। সমীকরণটা হয়তো কঠিন নয়, কিন্তু মনে রাখে কে। তাই কথায় কথায় যখন বলা হয় অমুক একটি উপভাষা, অথচ বাংলার মধ্যে তার যথেষ্ট অধিকার নেই, তখন আসলে ভুলে যাওয়া হয় যে শুধু কথ্যভাষা হলে তার যে অধিকার, কথ্য এবং লেখ্য দুই-ই হলে তার চেয়ে অনেক আলাদা। এইখানেই (বাংলার ক্ষেত্রে) কামতাপুরি আর (হিন্দির ক্ষেত্রে) মৈথিলির উপভাষাগত পদমর্যাদা আলাদা। ভাষা-উপভাষা সম্পর্ক, পশ্চিমবঙ্গীয়-পূর্ববঙ্গীয় ভাষার আদানপ্রদান, জেলাভিত্তিক বিসদৃশতা, গ্রাম্য শব্দের ব্যবহার ও বর্জন, শ্লেষ ও রঙ্গ ভাষার হরেক প্রকার, রাঢ়-বাংলার ভাষা, সুধীন দত্ত-বিষ্ণু দে’র অতিপ্রমিত ভাষা: গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলি প্রবন্ধের সমাহার রয়েছে এই বইটিতে।

নানা রকম বাংলা

সম্পা: তাপস ভৌমিক

৩০০.০০

কোরক

তেনজিং নোরগে কি মাউন্ট এভারেস্ট জয় করতে চেয়েছিলেন? না কি, শুধু যেতে চেয়েছিলেন সেই সুবিশালের কাছে? আজ যখন প্রতিনিয়ত পর্বত-অভিযাত্রীদের দল ছুটছে বিশ্বের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গের মাথায় নিজেদের বিজয়পাতাকা গেঁথে দেওয়ার জন্য, আর সেই অভিযানের ঘনঘটায় হিমালয়ের বুকে ক্রমশই জমে উঠছে আবর্জনার স্তূপ, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এ প্রশ্নটা নেহাত উড়িয়ে দেওয়ার নয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রকাশিত হয় তেনজিং নোরগের আত্মজীবনীর বাংলা অনুবাদ। সেই বই কালের গর্ভে বিলীন। ব্যক্তি তেনজিং এবং এভারেস্ট যাত্রা নামক এক স্বপ্ন বাস্তবায়নের আখ্যান জনপরিসরে আনার এই কাজটি গুরুত্বপূর্ণ, মানতেই হবে।

তেনজিং নোরগে: এভারেস্ট যাত্রার রুদ্ধশ্বাস আখ্যান

কল্যাণকুমার নন্দী

২৭৫.০০

ব্ল্যাকলেটার্স

(সার্ধ)শতাব্দী অতিক্রান্ত কার্ল মার্ক্সের ক্যাপিটাল কেন আজও অতিমাত্রায় প্রাসঙ্গিক? উত্তর দেবে ছ’টি বিভাগে বিন্যস্ত সতেরোটি প্রবন্ধের এই সঙ্কলন। কৃষি, শিল্প, আর্থিক পুঁজি থেকে শুরু করে এআই, এবং প্রকৃতি-পরিবেশ, গৃহশ্রম বা নাট্যপ্রযোজনার মতো ‘ভিন্ন পরিসর’— বহুবিচিত্র ক্ষেত্রে মার্ক্সীয় ভাবনার গভীর চর্চা ও চর্যা থেকে উঠে এসেছে এই বইয়ের লেখাগুলি। গ্রন্থের আত্মপরিচিতি থেকে দু’টি বাক্য উদ্ধৃত করে বলা যায়, “বাস্তবের জমিতে পা রেখে মার্কসীয় তত্ত্বের চর্চায় নতুন দিশার খোঁজ এবং তার সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প পৃথিবীর অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার অনেকান্ত পথের অনুসন্ধান— এই দু’টি কাজ বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরম পারস্পরিকতায় জড়িত এক অশেষ ও অবিরত অনুশীলন। এই বই তারই একটি সমবায়ী উদ্যোগ।”

পুঁজির ঐ লৌহকপাট: মার্কসের ক্যাপিটাল ও বিকল্প পথ

সম্পা: অঞ্জন চক্রবর্তী

৬০০.০০

সারস

পার্সোনাল সর্বদাই পলিটিক্যাল। এই বইয়ের গোড়াতেই প্রহেলী নিজের মা-বাবার সম্পর্কের কথা বলে জানিয়েছেন, তাঁর প্রগতিশীল, স্ত্রীর চাকরিতে গর্বিত পিতারও মুখ ভার হত অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফেরা বৌ রাতের খাবারে শুধু সিদ্ধ-ভাত দিলে, অথবা স্বামীর সঙ্গে গল্প করার মতো যথেষ্ট সময় না পেলে। উগ্র পুরুষ নন, বরং নিজেকে নারীবাদী বলে ভাবতেই ভালবাসেন, এমন মানুষকেও আজীবন সাক্ষী থাকতে হয় নিজের অন্তরের পৌরুষের গুমর আর অর্জিত উদারতার লড়াইয়ের। এমন মানুষদের বোঝার জন্য যে নারীবাদী দৃষ্টিকোণ প্রয়োজন, এই বইয়ের অধিকাংশ প্রবন্ধই রচিত সেই অবস্থান থেকে।

অসাম্য ভেঙে অসামান্য

প্রহেলী ধর চৌধুরী

৩২৫.০০

সৃষ্টিসুখ

এগারোটি কবিতার এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘রবীন্দ্রনাথ’, শেষটি: ‘মরে যাওয়ার আগে’। ‘তুমি ছিলে তাই, পথে ভ্রমি/ ভ্রষ্ট আমি’, গোড়ার এই আত্মকরুণা মাখা কবিস্বর শেষের কবিতায় এক দীর্ঘ যাত্রাশেষে যেন পৌঁছেছে এই চেতনসত্যে: ‘তুমিও বহু ব্যবহৃত উপমায়/ ভোলো না কিছুই’। মাঝখানে একটা গোটা জীবন: মন ও সত্তার সংঘাত প্রকৃতির লাবণ্যকেও রেওয়াত করে না। স্মৃতিময়তা এই কবির শেষ আশ্রয় নয়, পাহাড় অরণ্য মানুষ প্রেম সীমান্ত মৃত্যু পেরিয়ে তিনি এই সত্যকে ছুড়ে দেন: “গোঁফে তা দেওয়া এপারের রক্ষী/ ভাষা বোঝে না বলে,/ ওপারের শ্যামল ছেলেটিকে/ লিট্টি এগিয়ে দেয়,/ দু’জনেই জলকে বলে পানি,/ তবু পিপাসা মেটে না।”

সুসময় বলে কিছু নেই

সেবন্তী ঘোষ

৩০০.০০

সিগনেট প্রেস

সর্বনাশা যুদ্ধের জন্যই শুকিয়ে গিয়েছিল সরসতিয়ার গ্রাম, আশপাশের আরও বহু গ্রামও। যে সে যুদ্ধ নয়, ধর্মযুদ্ধ। আগুনঝরা অস্ত্রে জ্বলে গিয়েছিল ঘাসজমি। মহাভারতের যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সেই রুখাশুখা জমির উপরেই লেখিকা বিছিয়েছেন তাঁর আখ্যান। যুদ্ধ সাধারণ মানুষের জীবনের কী ভাবে ক্ষতি করেছিল, পরিবেশকে কতটা তছনছ করেছিল, তার অনুসন্ধানই প্রেক্ষাপট। ব্যাসদেব একটি রাতের জন্য সব মৃত যোদ্ধাকে পুনরুজ্জীবিত করেন— রাজশেখর বসুর মহাভারতের এই আখ্যান ঘিরে কাহিনি বুনেছেন লেখক। এ পৃথিবী যখন মানবতার মন্ত্র ভুলে অস্ত্র আর পেশি প্রদর্শনেই আস্থা রাখছে, তখন এই বই নতুন করে ভাবায়।

পুনরুজ্জীবন: প্রান্তজনের ভারতকথা

তৃষ্ণা বসাক

২৭৫.০০

ধানসিড়ি

কেন ভাল লাগে বব ডিলানের গান আর লেখাপত্তর, এত বছর ধরে? নিজেকেই করা এ প্রশ্নের উত্তরের হদিস পেতে এই বই। ডিলানকে নিয়ে যা-যা বই বাজারে আছে, তা হয় জীবনী, নয়তো তাঁর গানের ভাষ্য বা ব্যাখ্যা। এই দুই ছাড়াও এক ‘স্বতন্ত্র পথ’-এর সন্ধান করেছেন শুভব্রত এ বইয়ে— যা একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অন্বেষণ, আবার এক রকম দার্শনিকও; কেন তাঁর গান বদলে দেয় চার পাশ, বেঁচে থাকার সব অলস মলিনতা— সেই অনন্ত ‘হোয়াই’-এর খোঁজ। আবার ডিলানের গান যিনি শুনছেন কয়েক দশক ধরে, তাঁরও তো বদল ঘটেছে এর মধ্যে। সেই পরিবর্তনপথের দীর্ঘ সখ্যসেতুর নামটিই বব ডিলান, মত লেখকের। শিল্পীর জীবন, গান, লেখালিখি, তাঁকে ঘিরে সদ্যনির্মিত চলচ্চিত্র আ কমপ্লিট আননোন-এর অনুষঙ্গে তাঁকে ফিরে দেখার প্রয়াস।

বব ডিলান: স্বচ্ছ এক প্রহেলিকা

শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

২৭৫.০০

ঋতাক্ষর

সৌরীন ভট্টাচার্যকে বাঙালি কোন পরিচয়ে মনে রাখে, জটিল প্রশ্ন: অর্থশাস্ত্রের অধ্যাপক, রবীন্দ্র-ভাবুক, উনিশ শতকের বঙ্গসমাজ বিষয়ে উৎসুক গবেষক, প্রাবন্ধিক, প্রতিটি পরিচয়েই তিনি স্বমহিমায় বিরাজমান। গত কয়েক বছরে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধগুলি সাড়া ফেলেছে পাঠকসমাজে। লিখেছেন তাঁর শিক্ষকজীবনের কথা, কী ভাবে তাঁর শিক্ষকরাও মিশে গিয়েছেন তাঁর শিক্ষকতা যাপনের প্রাত্যহিকতায়। লেখাগুলি দু’মলাটে নিয়ে আসায় শিক্ষিত পাঠক উপকৃত হবেন।

উত্তরাধিকার সৌরীন ভট্টাচার্য,

সম্পা: অম্লান দত্ত

৫০০.০০

অভিযান

চেতলার সিনেমাহলে একটা হিন্দি ‘স্টান্ট-মুভি’ দেখতে গিয়ে কী মনে হল, দুলাল দত্ত পাড়ি দিলেন চল্লিশের দশকের বম্বেতে, ফিল্ম এডিটিং শিখতে। এই মানুষটাই সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী থেকে আগন্তুক অবধি সিনে-যাত্রার অচ্ছেদ্য সঙ্গী, কলকাতা তথা বাংলার বহু পরিচালকের (এমনকি সাগরপারের জেমস আইভরিরও) নানা কাহিনিচিত্র ও অন্য ছবির এডিটর। কিন্তু তাঁকে নিয়ে আলোচনা দূরস্থান, তাঁর স্মরণই বা হয় কই! জন্মশতবর্ষ পেরিয়ে গেল গত বছর, এই আবহে অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছেন শান্তনু সাহা এই বইয়ে: শিল্পী, চলচ্চিত্র-কর্মী, মানুষ দুলাল দত্তের কৃতি ও কীর্তি তুলে ধরেছেন সযত্নে।

দুলাল দত্ত: এক অন্তর্মুখী চিত্র-সম্পাদকের কাহিনি

শান্তনু সাহা

৪৫০.০০

লা স্ত্রাদা

আরও পড়ুন